বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান খরা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসন রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে বর্তমান সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের খরা সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পানিসম্পদের সুষম বন্টনের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়েছেন।
কার্যক্রম ও পরিবেশগত কৌশল:
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫৪ লাখ হেক্টর ভূমি খরাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং অতিরিক্ত মাত্রায় গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলার কারণে সেখানে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে:
-
খাল ও জলাশয় পুনঃখনন: ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী, খাল ও জলাশয় খনন বা পুনঃখননের মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণে (Recharge) সহায়তা করবে।
-
প্রযুক্তি ও কৃষির সমন্বয়: খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ফসলের বিস্তার ঘটাতে কৃষকদের মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএস-এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম এগ্রো-মেট্রোলজিক্যাল পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় যৌথ পানি ব্যবস্থাপনা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সুষম প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ জনপদে যে মরুকরণ ও লবণাক্ততার সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী অববাহিকাভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, সময়োপযোগী এই পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানগুলো দেশের খাদ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
