আতাকামা মরুভূমিতে কুয়াশার ফাঁদ তৈরি করে পানীয় জল সংগ্রহ করা হচ্ছে
চিলির আতাকামা মরুভূমি অত্যান্ত মারাত্বকভাবে শুষ্ক, কার্যত সেখানে কোনও পরিমাপযোগ্য বৃষ্টিপাত হয় না। যদিও এটি উপকূলীয় অঞ্চলে, তাই সমুদ্রের বাতাস অভ্যন্তরীণভাবে প্রবাহিত হয়। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রের বাতাস থেকে মূল্যবান পানীয় জল সরবরাহ করতে পারা যায়।

কুয়াশার ফাঁদ হল জাল পর্দা যা কুয়াশার ফোঁটা ধরে রাখতে পারে; যখন পর্যাপ্ত পানি জমা হয় তখন তা সংগ্রাহকের মধ্যে চলে যায়। এ মরুভূমিতে ১৯৬০ সাল থেকে কুয়াশার ফাঁদ ছোট আকারে ব্যবহার করা হচ্ছে, এক বর্গমিটার জাল দ্বারা একজন ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল সংগ্রহ করতে পারে।
ক্রাকোর এজিএস বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ উরসুলা স্টাচেউইচ এবং তার দল একটি সূক্ষ্ম ইলেক্ট্রোস্পান ফাইবার তৈরি করেছেন, যা যান্ত্রিকভাবে ঘুরানো পরিবর্তে বৈদ্যুতিক শক্তি দিয়ে টানা হয়, যা কুয়াশাকে আরও ভালভাবে ধরতে পারে। স্টাচেউইচ বলেছেন যে উপাদানটি মাকড়সার জাল দ্বারা অনুপ্রাণিত যা হাইড্রোফোবিক এবং হাইড্রোফিলিক বৈশিষ্ট্যগুলিকে একত্রিত করে, তাই ফোঁটাগুলি প্রথমে তন্তুতে লেগে থাকে এবং পরে সংগ্রাহকে জমা হয়।
ন্যানোফাইবার জাল যুক্ত করলে একটি কুয়াশার ফাঁদ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোঁটাগুলিকে ধরতে আরও কার্যকর হয় যা অন্যথায় ফাইবারগুলির মধ্যে বিস্তৃত ফাঁক দিয়ে যেতে পারে। ইলেক্ট্রোস্পান ফাইবারগুলি ইতিমধ্যেই এয়ার ফিল্টার এবং ধুলো পরিষ্কারের কাপড়ে ব্যবহৃত হয় এবং কম খরচে ব্যাপকভাবে পানি উৎপাদিত হতে পারে।
এই সহজ প্রযুক্তি বিশ্বের অনেক অংশে পরিষ্কার পানীয় জল সরবরাহ করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যেখানে পাণীয় জল সরবরাহের অবকাঠামোর অভাব রয়েছে এবং যা ক্রমবর্ধমানভাবে জলের চাপের সম্মুখীন হয়, এমনকি আতাকামার মতো শুষ্ক অঞ্চলেও।
মূল লেখকঃ ডেভিড হ্যাম্বলিং
বাংলায় রূপান্তরঃ রহমান মাহফুজ
দি গার্ডিয়ানের সৌজন্যে