-মোঃ রাজিবুল ইসলাম (রাজিব)
গাজীপুরের শ্রীপুরে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে এ বছর। ভালো ফলন হলে বাগান মালিক ও চাষিদের মুখে হাসি থাকবে এটাই স্বাভাবিকভাবে বিষয়। কিন্তু এবার আর হয়নি। বাগান মালিকরা এবছর খুবই চিন্তায় আছে।
গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর লিচুর ভালো হয়েছে। তবে করোনা বাগান মালিকদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে এটাও সত্যি।
অন্যান্য বছর বাগান কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা আসে শ্রীপুরে কিন্তু এবছর আর আসেনি। কারণ একটাই আর তা হচ্ছে করোনাভাইরাস মহামারী। প্রতিবছর যারা বাগান কেনে তারাই পরিচর্যা করে থাকে বাগানের।
তবে এবছর বাগান পরিচর্যাসহ সকল কাজই করতে হচ্ছে বাগান মালিকদের । লিচুর পরিচর্যা থেকে শুরু করে মার্কেটে উঠানো পর্যন্ত সকল কাজই এখন করতে হচ্ছে বাগান মালিকদের।
সকল বিষয় উপলব্ধি করে বাগান মালিকরা এবছর শঙ্কায় আছেন হয়তো এবার লোকসানে পড়তে হবে। অনেক বাগান মালিক আছেন যারা বাগানের সকল কাজ করতে গিয়ে আর্থিক ও শ্রমিক সংকটে পড়ছেন।
অন্যান্য বছর ফুল ফোটার পরই নারায়ণগঞ্জের বেপারিদের কাছেবিাগান বিক্রি করে দিতেন শ্রীপুরের লিচু বাগান মালিকরা। ফলে ভালো লাভের মুখ দেখতেন তারা।
করোনা প্রার্দুভাবে বেপারিরা আসতে না পারায় এছর আর তাদের কাছে বিক্রি করা হয়নি লিচু বাগান। তাই এখন কীটনাশক প্রয়োগ ও পাহারার ব্যবস্থা করছেন বাগান মালিকরা নিজেরাই। এতে মালিকদের ভোগান্তি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক।
সঠিক সময়ে বাগান বিক্রি না করতে পারায় লিচু বিষয় সংশ্লিষ্টরাও পরেছেন বিপদে। যেখানে শুধু মাত্র একটি গ্রামের লিচু বাগানে সম্পৃক্ত থাকে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক। তাদের দাবি যদি লিচুর ভালো দাম না পাওয়া যায় তাহলে তাদের শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে হিমশিম খেতে হবে।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এবছর ১৫০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। গাজীপুরে বরাবরই লিচুর ভালো ফলন লক্ষ্য করা যায়। গত বছর ফলন হয়েছিল ২৬ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন লিচু। এবছরও তার ব্যতিক্রম নয় বলে জানা যাচ্ছে। জেলা সবচেয়ে বেশি লিচুর আবাদ করা হয় শ্রীপুর উপজেলায়।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবছর লিচুর আবাদ হয়েছে সাতশত ২৫ হেক্টর জমিতে।শ্রীপুরে গতবছর প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছিলো।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম মুয়ীদুল হাসান জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এখানকার বাগান মালিকরা কৃষি বিভাগ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে নিজ উদ্যোগে পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন আড়তে লিচু বিক্রি করতে পারবেন। আর এই ক্ষেত্রে সকল প্রকার সহায়তা করবে কৃষি বিভাগ।