25.7 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৭:৩৪ | ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে
পরিবেশ রক্ষা

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার কমাতে হবে

পলিথিনের ব্যবহার কোনোভাবে থামাতে দিচ্ছে না। পলিথিন সামগ্রী জনগণের হাতে হাতে। পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধে এই পণ্যের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইনে আছে, পলিথিনের উৎপাদনকারীর জন্য ১০ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে প্রথমে বছরদুয়েক এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও পরে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা কারণে উদাসীনতা প্রদর্শন করতে থাকে। আর সেই সুযোগে পলিথিনের উৎপাদন, বিক্রি এবং ব্যবহার পুনরায় শুরু হয়ে যায়। পলিথিন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিনের উৎপাদন বাজারজাত ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতের জন্য পরিবেশের আরও বড় হুমকি অপেক্ষা করছে।

এখন শহর-নগর-গ্রাম সর্বত্রই প্রকাশ্যে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। যদিও বিভিন্ন সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ ও শপিং ব্যাগ জব্দ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার খবর গণমাধ্যমে আসছে, কিন্তু এরপরও পলিথিনের আগ্রাসন কমছে না কিছুতেই। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য পড়ছে চরম হুমকিতে।

দেশে একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট পলিথিন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এসব সিন্ডিকেটের কারণেই পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রিতে জেল-জরিমানার বিধান থাকলেও কঠোর প্রয়োগ না থাকায় পলিথিন সিন্ডিকেটগুলো দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

উলেস্নখ্য, পলিথিনের ব্যাগ এমন একটি বস্তু, যার দ্বারা দেশের প্রতিটি পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের চরম ক্ষতি হয় পলিথিনের ব্যবহারে।



পলিথিন ধীরে ধীরে মানুষকে মৃতু্যর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। পলিথিন উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে এটির বাজারজাতকারী ও ব্যবহারকারী পর্যন্ত সবাই চরমভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এই আশঙ্কা কোনোভাবেই দুর্বল ভাবা উচিত নয়। এই পলিথিন ব্যবহারে চর্মরোগ, ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। পলিথিনে মাছ, মাংস মুড়িয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর এতে রেডিয়েশন তৈরি হয়ে খাবার বিষাক্ত হয়ে ওঠে। পলিথিনে রং করার জন্য ক্যাডমিয়াম মানবশরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

উন্নত দেশগুলোয় ক্যাডমিয়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পলিথিন অপচনশীল বিধায় শহরে-গ্রামে সব এলাকায় এর ক্ষতিকর প্রভাব রেখে যায়। পলিথিন মাটির সঙ্গে মেশে না।

ডাস্টবিনে ফেলা পলিথিন বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনে ঢুকে পড়ে। ফলে শহরে নালা-নর্দমার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পলিথিন নদীর তলদেশে জমা হয়ে ভরাট করে ফেলে। পলিথিন পোড়ালে তীব্র বায়ুদূষণ ঘটে।

পলিথিন পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত গ্যাস কার্বন মনোঅক্সাইড বেড়ে যাওয়ায় মানুষের শরীরে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। পলিথিন নষ্ট করে দেয় কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উৎপাদনযোগ্য জমিসমূহের উর্বরাশক্তি।

অপচনশীল হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন প্রকৃতিতে অবিকৃত অবস্থায় থাকায় মাটিতে সূর্যালোক, পানি ও অন্যান্য উপাদান প্রবেশ করতে না পারায় মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। মাটিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করে।

পরিত্যক্ত পলিথিন মাটিতে বীজের শিকড় প্রসারিত হতে বাধা সৃষ্টি করে। মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করতে দেয় না। ফলে, কোনোভাবে গাছ বেঁচে থাকলেও এতে ফল ধরে না। ফল ধরলেও তা নিম্নমানের।

যে এলাকায় মাটির গভীরে পলিথিন আছে, সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করলে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে নিম্নমাত্রায় ভূমিকম্পেও পলিথিন মিশ্রিত মাটির ওপর নির্মিত দালান-কোটা ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হয়। এছাড়া আরও অনেকভাবে পলিথিনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবেশ ও জনজীবনে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত