বন্য প্রাণীর ২০ ভাগ রয়েছে বিলুপ্তির চরম হুমকিতে
পাঁচ দশকে দেশের বন থেকে হারিয়ে গেছে ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী। বিলুপ্তির মুখে রয়েছে হাতি, বাঘ, ভাল্লুক, অজগর, রাজ গোখরা, গয়ালের মতো প্রাণী। গবেষকরা বলছেন, দেশের দেড় হাজার প্রজাতির বন্য প্রাণীর ২০ ভাগ রয়েছে বিলুপ্তির চরম হুমকিতে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) জরিপ বলছে, এক সময় ১২ শিঙা হরিণ ছিল সিলেটের বনে। বুনো মহিষ, নেকড়েসহ ১১ স্তন্যপায়ী, ১৯ প্রজাতির পাখি ও মিঠা পানির কুমিরসহ ৩১ প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে গত ৫০ বছরে।
উদ্ভিদের পরাগায়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম মৌমাছি। ফলমূল, শাকসবজির শতকরা ৭০ ভাগের জন্ম এদের মাধ্যমে। তাই মৌমাছিকে পরিবেশের বন্ধু বলা হয়। অথচ মৌমাছির অস্তিত্ব এখন চরম হুমিকির মুখে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বায়ু দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অধিক পরিমাণে কীটনাশকের ব্যবহারে এই কীটের জীবন এখন বিলুপ্তির মুখে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন বলছেন, দেশে ২০ প্রজাতির মৌমাছির মধ্যে সচেয়ে ঝুঁকিতে সুন্দরবন ও পাহাড়ি এলাকার মৌমাছি।
উত্তরে তিস্তার অববাহিকা, দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি ছিল তিন প্রজাতির গণ্ডারের। কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়েছে আবান। দেশের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে স্তন্যপায়ী তৃণভোজী এই প্রাণীটি।
জলবায়ু ও পরিবেশ গবেষক আইনুন নিশাত জানান, গত শতকে দেশের তৃণভূমিতে আবাস ছিল ময়ূর প্রজাতির পাখি পাতি ডাহরের।
এ অবস্থায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শকুন বাঁচাতে খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামে গড়া হয়েছে নিরাপদ এলাকা। সুন্দরবন, রেমা-কেলঙ্গাসহ ২৪টি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য, ১৮টি জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্কেও হচ্ছে সংরক্ষণ।
পাচার ও হত্যা বন্ধে আছে বন্য প্রাণী অপরাধ ইউনিট। বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, মেরিন সংরক্ষিত এলাকা। সম্প্রতি নিষিদ্ধ হয়েছে এয়ারগান।