বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ, কারیل কার্বন নিঃসরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজপথে নেমেছে লক্ষ লক্ষ তরুণ পরিবেশকর্মী।
২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার সংবেদনশীল জনপদগুলোতেও পালিত হয়েছে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ (Global Climate Strike)। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ‘সিওপি৩১’ (COP31)-এর আগে শিল্পোন্নত দেশগুলোর টালবাহানা এবং জলবায়ু তহবিলের দীর্ঘসূত্রিতার বিরুদ্ধে যুবসমাজ অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছে।
আন্দোলনের মূল দাবি ও আন্তর্জাতিক রূপরেখা: তরুণ পরিবেশকর্মীরা এবারের বিক্ষোভে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর দাবি বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন:
-
বরেন্দ্র ও প্রান্তিক অঞ্চলের সংকট অন্তর্ভুক্তি: বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিশ্বের খরা ও লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকাগুলোর জলবায়ু সংকটকে আসন্ন সিওপি৩১ (COP31) সম্মেলনের মূল এজেন্ডায় অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তরুণরা বলেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল ভুক্তভোগী প্রান্তিক জনপদের মানুষের কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক নীতিমালার টেবিলে জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
-
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে فوری রূপান্তর: জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করে সেই অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় অভিযোজন তহবিলে রূপান্তর করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে তরুণ প্রজন্মের এই জাগ্রত কণ্ঠস্বরই আজ বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় নৈতিক চাপ। গ্রিনপেজ মনে করে, বিশ্বনেতারা যদি এখনই তরুণদের এই দাবিগুলোকে আমলে নিয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তবে আগামী দিনে ধরিত্রী এক অপূরণীয় ও ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হবে।
