সীমান্ত অতিক্রমকারী হাতি রক্ষা এবং মানব-হাতি দ্বন্দ্ব (Human-Elephant Conflict) নিরসনে টেকসই পথ খোঁজার দাবি উঠেছে। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলোর এক জাতীয় সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান যে, বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সীমান্তে আটকে পড়া হাতির দল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে বন উজাড় ও মানব বসতি বাড়ায় বুনো হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মূল তথ্য ও সংরক্ষণ রূপরেখা: সভায় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং জলবায়ু গবেষকরা হাতির স্থায়ী সুরক্ষায় বেশ কিছু ক্রসবর্ডার উদ্যোগ ও কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরেন:
-
আন্তঃসীমান্ত বন্যপ্রাণী করিডোর: শেরপুর, নেত্রকোণা, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলগুলোকে হাতির নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আন্তর্জাতিক ‘মাইগ্রেশন করিডোর’ হিসেবে চিহ্নিত ও সুরক্ষিত করার আহ্বান জানানো হয়।
-
স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ড্রোন মনিটরিং: লোকালয়ে হাতির আক্রমণ কমাতে আধুনিক স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং, ড্রোন মনিটরিং এবং স্থানীয় ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ (ERT)-কে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসাথে হাতির আক্রমণের ফলে কৃষকের ফসলের ক্ষতি পূরণে দ্রুগ গতিতে সরকারি ক্ষতিপূরণ ছাড় করার তাগিদ দেওয়া হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: হাতি শুধু একটি বিপন্ন প্রাণী নয়, এটি সামগ্রিক বনাঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান চাবিকাঠি। গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বর্ডার করিডোর সুরক্ষার মাধ্যমে বুনো হাতির অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের পাহাড়ি ইকোসিস্টেম স্থায়ী হুমকির মুখে পড়বে।
