26 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
[bam1112Sundayam_302811Asia/Dhaka] | [Asia/Dhaka1112Sunday284512_01am30Asia/Dhaka] খ্রিস্টাব্দ | [bam1112Sundayam_01am30Asia/Dhaka] বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জাতিসংঘ দিবস ২০২৬: জলবায়ু ন্যায়বিচার, বৈশ্বিক সমতা এবং জাতিসংঘের দায়বদ্ধতা
আন্তর্জাতিক দিবস আন্তর্জাতিক পরিবেশ

জাতিসংঘ দিবস ২০২৬: জলবায়ু ন্যায়বিচার, বৈশ্বিক সমতা এবং জাতিসংঘের দায়বদ্ধতা

– নিকোলাস বিশ্বাস 

২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্ব ‘জাতিসংঘ দিবস’ পালন করছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এক গভীর পরীক্ষার মুখোমুখি। যুদ্ধ সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের কার্যক্রমকে স্থবির করে দিচ্ছে, মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে এবং জলবায়ু সংকট সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। অর্থনৈতিক অসমতা এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ টেকসই উন্নয়নের গতিকে ধীর করে দিচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে জাতিসংঘ (UN) গঠিত হয়েছিল—যাতে দেশগুলো সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের সনদ কার্যকর হওয়ার ৮১ বছর পরও সেই লক্ষ্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তবুও, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধান একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে: জাতিসংঘ কি আজও তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম?

একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান, অথচ অসম কণ্ঠস্বর

বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩টি; এছাড়া ভ্যাটিকান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ‘অ-সদস্য পর্যবেক্ষক’ হিসেবে যুক্ত রয়েছে। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর যখন এর সনদ কার্যকর হয়, তখন ৫১টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সংস্থাটি আজ সম্মিলিত কার্যক্রমের একটি প্রায় সর্বজনীন মঞ্চে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এতে যোগ দেয়; আর সর্বশেষ সদস্য হিসেবে ২০১১ সালের ১৪ জুলাই দক্ষিণ সুদান এতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

সাধারণ পরিষদের সকল সদস্যের একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলেও, বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমতা নেই—বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষেত্রে। মূল চ্যালেঞ্জটি জাতিসংঘ থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়, বরং একে আরও কার্যকর ও ন্যায়পরায়ণ করে তোলা এবং সম্মিলিতভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলোর দায়বদ্ধতা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা।

শান্তি যেন কেবল একটি সুদূরপ্রসারী প্রতিশ্রুতি হয়ে না থাকে

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই জাতিসংঘ গঠিত হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সংস্থাটি দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খায়। রাষ্ট্রগুলো যখন নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা কমে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়—পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি হারায়, শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়।

শান্তি মানে কেবল সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়। সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত কোনো ব্যক্তির কাছে শান্তির অর্থ হলো—নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় নিজ ঘরে ফিরে যাওয়া, ভয়মুক্ত জীবনযাপন করা এবং মর্যাদার সাথে নতুন করে জীবন গড়ে তোলা।

উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই জাতিসংঘকে প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেসব অঞ্চল প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে, তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক নৃশংসতার ক্ষেত্রে ভেটো ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে এই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে। তবে এটি তখনই সম্ভব, যখন সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হবে।

বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার

জাতীয়তাবাদ, মেরুকরণ এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থার ঘাটতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। কোনো কোনো সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখে; আবার কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করে যে, বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলো তাদের নীতিগুলো সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করে না। আস্থা গড়ে ওঠে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং দৃশ্যমান ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে। শক্তিশালী দেশগুলোকে অবশ্যই সেই জবাবদিহিতা মেনে চলতে হবে, যা তারা অন্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।

তিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এই বিতর্কটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। ‘দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই জাতিসংঘকে একটি “অকার্যকর সংস্থা” এবং এর নেতাদের “অহংকারী পরজীবী” বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংস্থাটি সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের আহ্বান জানান, যাতে সব অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় এবং তিনি ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন।

হঠাৎ অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিধিনিষেধ আরোপের ফলে মানবিক সহায়তা, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জরুরি পরিষেবাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর সমাধান সহযোগিতা কমিয়ে ফেলা নয়, বরং সহযোগিতাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা—যার মধ্যে রয়েছে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।

মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাইবার হুমকির মতো বিষয়গুলো প্রমাণ করে যে, স্বার্থের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেন দেশগুলোর একে অপরের সাথে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে না, বরং তা জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষা দেয়। ৮১তম জাতিসংঘ দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন: “আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর; একই সঙ্গে যুদ্ধ, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ওপরও।”

মানবাধিকার হতে হবে সর্বজনীন

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার একটি সাধারণ মানদণ্ড নির্ধারণ করে, তবুও এর বাস্তবায়ন এখনো অসম। সরকারগুলো কখনো কখনো সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে সমালোচনাকে নাকচ করে দেয়; অন্যদিকে নজরদারি, অনলাইন সেন্সরশিপ এবং ডিজিটাল দমন-পীড়ন স্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি সৃষ্টি করছে।

জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে নিরপেক্ষভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ওপর। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে সমতাকে ভূ-রাজনৈতিক জোটের দরকষাকষির হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। কার্যকর পর্যবেক্ষণ, নির্ভরযোগ্য তদন্ত এবং গুরুতর অপরাধের জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই হলো মূল চাবিকাঠি। মানবাধিকার কাউন্সিল এবং অন্যান্য সংস্থাকে তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। এছাড়া, সরকারগুলোকে অবশ্যই নাগরিক পরিসর (সিভিক স্পেস) ও গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা করতে হবে।

টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক সংহতি

২০৩০ এজেন্ডা এবং এর ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) দারিদ্র্য, অসমতা, স্বাস্থ্য সমস্যা, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ন্যায়সংগত প্রবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি অভিন্ন রূপরেখা প্রদান করে। তবে অর্থনৈতিক অভিঘাত, ঋণের বোঝা, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই অগ্রযাত্রাকে ধীর করে দিয়েছে। যেসব জনগোষ্ঠী পরিবেশের ওপর সবচেয়ে কম চাপ সৃষ্টি করে, তারাই প্রায়শই প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সবচেয়ে কম সম্পদের অধিকারী হয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের উন্নয়ন চাহিদার সাথে সম্পর্কিত—যেমন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অধিকতর ন্যায়সংগত অর্থনৈতিক চুক্তি। বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার পরিবর্তন, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং পরিশোধ অযোগ্য ঋণের বোঝা কমানো এই এজেন্ডার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত; পাশাপাশি ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই জলবায়ু বিষয়ক তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।

তবে কেবল সহায়তা দিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; জাতীয় নেতৃত্ব, সুশাসন এবং জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের ভূমিকা হলো অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোকে সমর্থন করা, যাতে উন্নয়নের সুফল তাদের কাছে পৌঁছায় যারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঘোষণা থেকে বাস্তবায়নের পথে

৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—”বিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ”—বর্তমান চ্যালেঞ্জটিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।

জাতিসংঘকে তার বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে, ফলাফলের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং তথ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগাম সতর্কবার্তা প্রদান ও জনসেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করতে পারে, তবে তা অবশ্যই মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থার দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।

দায়িত্ব সবার। সরকারগুলোর দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত কোনো সংস্থা তাদের সহযোগিতা ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে উঠতে পারে না। নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক এবং সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এবং বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে রূপান্তর করতে সহায়তা করেন।

বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কেবল বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; তাদের উচিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, ন্যায়সংগত বৈশ্বিক নিয়মনীতির পক্ষে কাজ করা এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর যেন প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করা।

মানবতার প্রতি নতুন অঙ্গীকার

জাতিসংঘ দিবস কেবল একটি বার্ষিক উদযাপনের দিন হওয়া উচিত নয়। বরং এটি এমন একটি উপলক্ষ হওয়া উচিত, যেখানে আমরা যে পৃথিবী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং মানুষ বাস্তবে যে পৃথিবীতে বাস করছে—এই দুইয়ের মধ্যকার ব্যবধান পরিমাপ করা যায়।

জাতিসংঘ কোনো দেশের জাতীয় নেতৃত্বের বিকল্প নয়, আবার এটি কোনো নিখুঁত প্রতিষ্ঠানও নয়; তবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বহুপাক্ষিকতাকে (multilateralism) বর্জন করলে বৈশ্বিক সমস্যাগুলো দূর হবে না, বরং সম্মিলিতভাবে কোনো সংকট মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বারহাম সালিহ যথার্থই বলেছেন: “শান্তিকে কেবল স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের জীবনে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তার মাধ্যমেই পরিমাপ করতে হবে।”

৮১ বছর বয়সে এসে জাতিসংঘের প্রয়োজন তার মূল নীতিগুলোর প্রতি নতুন করে সমর্থন, কার্যকর সংস্কার এবং বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা।

এর সাফল্য কেবল গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিচার করা হবে না; বরং যুদ্ধজনিত কষ্ট লাঘব, মানবাধিকার সুরক্ষা, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উন্নয়নের সমান সুযোগ প্রদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে এটি কতটা সফল, তার ওপরই নির্ভর করবে এর সার্থকতা।

বিশ্বের এমন একটি জাতিসংঘ প্রয়োজন, যা কেবল সবার পক্ষে কথা বলবে তা-ই নয়, বরং সবার জন্য কার্যকর ফলাফল বয়ে আনবে। বৈশ্বিক নেতাদের পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করা এবং প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

(অনুবাদিত)

– নিকোলাস বিশ্বাস 
একজন মিডিয়া ফ্রিল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত