বিশ্ব মহাসাগরের অতি-সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং গভীর সমুদ্রে বেপরোয়া খনিজ উত্তোলন (Deep-Sea Mining) বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক সমুদ্র তলদেশ কর্তৃপক্ষ (ISA) এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক পরিবেশগত নির্দেশিকা ও চুক্তি ছাড়া সমুদ্রের তলদেশে গভীর সমুদ্র খনিজ উত্তোলনের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ফ্রেমওয়ার্ক চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পটভূমিতে এই আন্তর্জাতিক বিরোধ এক নতুন মাত্রা ধারণ করেছে।
প্রতিবেদনের মূল উপাত্ত ও বিতর্কিত বাণিজ্যিক অবস্থান: আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নতুন পর্যালোচনায় সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের সুরক্ষা ও দেশগুলোর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার মূল চিত্র ফুটে উঠেছে:
-
সংবেদনশীল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঝুঁকি: সমুদ্রবিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, গভীর সমুদ্রের তলদেশে খনিজ সম্পদ (যেমন নিকেল, কোবাল্ট ও তামা) উত্তোলনের জন্য যান্ত্রিক খনন চালানো হলে বঙ্গোপসাগরসহ বৈশ্বিক মহাসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, বিরল প্রজাতি এবং কার্বন সিঙ্ক (Carbon Sink) চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
-
সিওপি৩১ ও হাই সিজ ট্রিটি (High Seas Treaty): সিওপি৩১ সম্মেলনের এজেন্ডায় মহাসাগর রক্ষা এবং ‘৩০×৩০’ (২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% জমি ও মহাসাগর সংরক্ষণ) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবাদী বিশ্বনেতারা সুনির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা ও গ্লোবাল মোরাটোরিয়াম (Moratorium) ঘোষণা না করা পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে সব ধরনের খননকাজ স্থগিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বাণিজ্যিক স্বার্থে গভীর সমুদ্রের অজানা জীববৈচিত্র্যকে ঝুঁকিতে ফেলা মানবজাতির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, মহাকাশ বা সমুদ্রের তলদেশ—কোথাওই পরিবেশগত তদারকি ছাড়া বাণিজ্যিক শোষণ মেনে নেওয়া যায় না। সমুদ্রকে বাঁচানো মানেই মূলত এই ধরিত্রী ও বৈশ্বিক জলবায়ু ভারসাম্যকে বাঁচিয়ে রাখা।
