রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শহরাঞ্চলে লাগামহীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নীরব ঘাতক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তরের (DoE) পরিবেশ মনিটরিং ও আইনি তদারকি উইং থেকে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় শব্দদূষণের নতুন চারটি বড় উৎস চিহ্নিত করার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উচ্চমাত্রার ও অপ্রয়োজনীয় শব্দের ফলে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন হওয়ার পটভূমিতে এই তালিকা প্রকাশ ও নতুন কার্যপদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
মূল তথ্য ও নতুন উৎসসমূহের রূপরেখা: পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে উঠে আসা শব্দদূষণের উৎস এবং তা নিরসনে নেওয়া আইনি পদক্ষেপগুলো হলো:
- চিহ্নিত নতুন উৎস ও ঝুঁকি: বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মাত্রায় ডেকোরেটিভ সাউন্ড সিস্টেম বা স্পিকারের অবাধ ব্যবহার, অননুমোদিত মেগা প্রজেক্টের জেনারেটর, নির্মাণকাজের হাইড্রোলিক ডিলিং ও পাইলিং সরঞ্জাম এবং গণপরিবহনে পরিবর্তন আনা বিকট মেটাল হর্নকে শব্দদূষণের প্রধান উদীয়মান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কঠোর তদারকি ও মোবাইল কোর্ট: নীরব এলাকা (স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা) চিহ্নিত করে শব্দসীমা অতিক্রমকারী প্রতিষ্ঠান ও মোটরযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসাথে চালক ও নাগরিকদের মধ্যে সজাগতা তৈরিতে বিশেষ লিফলেট বিতরণ এবং জরিমানা বাড়ানোর কঠোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: শব্দদূষণ কেবল নগরবাসীর বিরক্তির কারণ নয়, এটি উচ্চ রক্তচাপ, বধিরতা ও শিশুদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অন্যতম অনুঘটক।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, পরিবেশ অধিদপ্তরের শব্দদূষণের নতুন উৎস চিহ্নিতকরণ প্রশংসনীয় পদক্ষেপ, তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পরিবহন খাত এবং নগর ব্যবস্থাপনায় এটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই একটি স্বস্তিদায়ক ও সহনশীল নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
