প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা অত্যন্ত শক্তিশালী এক ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño)-র প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে, তার প্রত্যক্ষ ও মারাত্মক আঘাত হতে পারে বাংলাদেশে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু করে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় জনপদে অতিরিক্ত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে যে, এই এল নিনো চক্রটি বর্তমান শতাব্দীতে অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে।
গবেষণার মূল তথ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ:বিজ্ঞানীদের এই বিশ্লেষণে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
-
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মারাত্মক প্রভাব: খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাপপ্রবাহের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শুধু খুলনা অঞ্চলেই এই ছয় মাসের মেয়াদে তিন শতাধিক অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
-
শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ: জলবায়ু পরিবর্তনের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণতার সাথে এল নিনোর এই আকস্মিক তীব্রতা যুক্ত হওয়ায় আউটডোর বা খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষকরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বেন। হিট স্ট্রোক এবং পানিবাহিত নানা জটিলতা এড়াতে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি:এল নিনোর প্রভাবে তৈরি হওয়া এই বৈশ্বিক উষ্ণতার ধাক্কা আমাদের দেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা।
গ্রিনপেজ মনে করে, জাতীয় পর্যায়ে হিট অ্যাকশন প্ল্যান জোরদার করার পাশাপাশি প্রান্তিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং শীতলীকরণ সুবিধা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
