২০২৫ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যে ঐতিহাসিক ‘অ্যাডভাইজরি ওপিনিয়ন’ বা পরামর্শমূলক রায় দিয়েছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে তার প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আদালত স্পষ্ট করে বলেছে যে, জলবায়ু রক্ষা করা কোনো দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রগুলোর একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
আইনি বিপ্লব: দ্য হেগের এই আদালত জানিয়েছে, যেসব দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ভঙ্গ করবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা (NDC) পূরণ করবে না, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো (বিশেষ করে দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ) তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করতে পারবে।
২০২৬ সালের এই সময়ে ভানুয়াতু এবং ফিজি ইতিমধ্যে বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
তদন্ত ও রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া: আমাদের তদন্তে দেখা গেছে, আইসিজে-র এই রায়ের পর বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
ব্যাংকগুলো এখন নতুন কোনো কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অর্থায়ন করতে ভয় পাচ্ছে, কারণ তারা ‘জলবায়ু অপরাধের’ অংশীদার হতে চায় না। ২০২৬ সালের নতুন এনডিসি (NDC) সাবমিশনে অনেক উন্নত দেশ তাদের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হচ্ছে।
মানবাধিকার বনাম জলবায়ু: আদালত এই রায়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে মানবাধিকারের সাথে যুক্ত করেছে। এর অর্থ হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যদি কোনো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়, তবে তাকে ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। এটি আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনেও আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।
উপসংহার: ২০২৬ সাল প্রমাণ করছে যে, পৃথিবী এখন আর কেবল নেতাদের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করছে না, বরং আইনের শাসনের মাধ্যমে ধরিত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চলছে।
