জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার উত্তর মেরুর বরফ। গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক হারে বরফ গলে যাওয়ার পর, ২০২৬ সালের এই ফেব্রুয়ারিতে বিজ্ঞানীরা এক সাহসী ও বিতর্কিত প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন, যার নাম ‘আর্টিক রিফ্লেকশন’।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাঁচের মতো গোলক বা ‘সিলিকা মাইক্রো-বিডস’ ব্যবহার করে বরফের প্রতিফলন ক্ষমতা বাড়ানো। এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত ভূ-প্রকৌশল (Geo-engineering) সংবাদ।
বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, বরফ গলে গিয়ে যখন নিচের গাঢ় রঙের জল বেরিয়ে আসে, তখন তা সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করে এবং বরফ আরও দ্রুত গলতে শুরু করে। একে বলা হয় ‘অ্যালবেডো ইফেক্ট’।
২০২৬ সালের এই মিশনে বিশেষ বিমানে করে কয়েক টন পরিবেশবান্ধব সিলিকা বালি উত্তর মেরুর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বালুকণাগুলো সূর্যের আলোকে মহাকাশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, ফলে নিচের বরফ স্তরটি তুলনামূলক শীতল থাকে। এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ মানেই হলো উত্তর মেরুর বরফ গলার গতি অন্তত ২৫% কমিয়ে আনা।
তবে এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। কিছু বিজ্ঞানী মনে করছেন, এই কৃত্রিম বালি সামুদ্রিক প্রাণীদের খাদ্যচক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার মতো দেশগুলো যারা উত্তর মেরুর খনিজ সম্পদ আহরণ করতে চায়, তারা এই প্রজেক্টের বিরোধিতায় সরব হয়েছে। কিন্তু আইপিসিসি (IPCC) ২০২৬-এর বিশেষ রিপোর্টে জানিয়েছে, আমাদের হাতে সময় খুব কম এবং এরকম ‘আউট অফ দ্য বক্স’ সমাধান ছাড়া উত্তর মেরু রক্ষা করা অসম্ভব।
এই সিলিকা বালিগুলো ২০২৬ সালের শেষে যদি ইতিবাচক ফল দেখায়, তবে এটি হবে মানুষের দ্বারা পৃথিবীকে কৃত্রিমভাবে শীতল রাখার প্রথম বড় জয়।
