সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এখন কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি একটি ‘সাসটেইনেবল ইকো-সিস্টেম’। ২০২৬ সালে এখানে চালু হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ‘ইকো-টোকেন’ ব্যবস্থা।
পর্যটকরা এখানে প্রবেশের সময় যে প্রবেশমূল্য দেন, তা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি হাওর রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলে জমা হয় এবং স্থানীয় জনগণকে পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহী করে।
পর্যটকদের অংশগ্রহণ ও প্লাস্টিক মুক্তকরণ এখানে পর্যটকরা যদি কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট বুথে জমা দেয়, তবে তারা ‘ইকো-টোকেন’ পায়। এই টোকেন ব্যবহার করে তারা স্থানীয় রিসোর্ট বা নৌকায় বিশেষ ছাড় পেতে পারে।
২০২৫ সালে এই পদ্ধতি চালুর পর টাঙ্গুয়ার হাওর এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন জলাভূমি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাওরের পানির মান বিগত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ রেকর্ড করা হয়েছে।
এই তহবিল থেকে হাওর সংলগ্ন গ্রামবাসী তথা ‘হাওর গার্ড’দের বেতন দেওয়া হয়। ফলে মাছ চুরি ও পাখি শিকার বন্ধ হয়েছে। ২০২৬ সালের শীত মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে রেকর্ড সংখ্যক ৩ লক্ষাধিক পরিযায়ী পাখি এসেছে। স্থানীয় মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে হাওর বাঁচলে তাদের পর্যটন ব্যবসা ও জীবন—সবই বাঁচবে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের এই মডেলটি এখন সেন্ট মার্টিন এবং সুন্দরবনেও চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল ইকো-ইকোনমি বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।
