জলবায়ু অর্থায়ন এবং ৩৮৪ বিলিয়ন ডলারের চ্যালেঞ্জ: বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র ‘নেচার-বেসড সলিউশন’
জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবিলায় ‘নেচার-বেসড সলিউশন’ (NbS) বা প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এখন একটি ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র।
ইউএনইপি (UNEP)-এর ‘স্টেট অফ ফাইন্যান্স ফর নেচার ২০২৫’ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বিশ্বকে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-জিরো লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে প্রকৃতিতে বার্ষিক বিনিয়োগ বর্তমানে ১৫৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৮৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হবে। অর্থাৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও প্রায় ১২-১৪ গুণ ঘাটতি রয়েছে।
প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বলতে মূলত বনায়ন, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্বন শোষণের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই প্রকল্পগুলো একদিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে। বর্তমানে এই বিনিয়োগের ৮৩% আসে সরকারি উৎস থেকে।
তবে অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। তাই বেসরকারি খাতকে বিশেষ করে ব্যাংক এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে এই খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ১৬০টি বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন এই দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
উদ্ভাবনী অর্থনীতির অংশ হিসেবে এখন ‘বায়োডাইভারসিটি ক্রেডিট’ (Biodiversity Credits) নামক একটি নতুন ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনো কোম্পানি পরিবেশের ক্ষতি করলে সে অন্য কোথাও বনায়ন বা প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে অর্থায়ন করে সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি যেন কেবল ‘গ্রিনওয়াশিং’ বা লোকদেখানো কাজে পরিণত না হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যথাযথভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানগুলো বছরে ১০ গিগাটন কার্বন শোষণ করতে সক্ষম, যা বর্তমান বৈশ্বিক নির্গমনের ২৭%।
এই বিনিয়োগ কেবল পরিবেশই রক্ষা করবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ২০২৫ সালের পর থেকে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে এই ‘সবুজ অর্থনীতি’।
