২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক হাবগুলোতে (চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর এবং জাপান) এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এখন থেকে এসব দেশের বড় বড় সব কোম্পানিকে তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি ‘ইএসজি (ESG) রিপোর্টিং’ বা পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাবের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই সংবাদের ফলে ২০২৬ সালের শুরুতে এশিয়ার স্টক মার্কেটগুলোতে এক বিশাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এতদিন এই নিয়ম কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন তা এশিয়ায় কার্যকর হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।
ইএসজি বা Environment, Social, and Governance রিপোর্টিং-এর ফলে কোম্পানিগুলো এখন কেবল মুনাফার হিসাব দিতে পারছে না। তাদের জানাতে হচ্ছে—তারা কতটুকু কার্বন নিঃসরণ করেছে, কতটুকু জল ব্যবহার করেছে এবং তাদের সাপ্লাই চেইনে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা।
২০২৬ সালের এই আইনের কারণে গুগল এবং অ্যাপলের মতো টেক জায়ান্টরা তাদের এশিয়ান পার্টনারদের ওপর কঠোর পরিবেশগত শর্ত আরোপ করছে। এতে করে হাজার হাজার ছোট-বড় কারখানা এখন গ্রিন এনার্জি এবং জিরো-ওয়েস্ট পলিসি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব কোম্পানি ভালো ইএসজি স্কোর দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তাদের ওপরই বেশি বিনিয়োগ করছে। ২০২৬ সালে ‘গ্রিনওয়াশিং’ বা মিথ্যা পরিবেশগত দাবি ধরা পড়ার জন্য এআই টুল ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে গেছে।
এই বাধ্যবাধকতা এশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। ২০২৬ সালের এই সিদ্ধান্তটি কর্পোরেট জগতের মানসিকতা আমূল বদলে দিয়েছে।
