২০২৬ সালের মার্চ মাস। কক্সবাজারের নীল জলরাশিতে এখন কেবল ঢেউয়ের খেলা নয়, বরং পানির নিচে দোল খাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন এক সম্ভাবনা—‘সিউইড’ বা সামুদ্রিক শৈবাল।\
সরকারের ‘ব্লু ইকোনমি ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় ইনানি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার উপকূলে বাণিজ্যিকভাবে শৈবাল চাষের এক মহাবিপ্লব ঘটে গেছে। এটি কেবল খাদ্য বা প্রসাধনী শিল্পের কাঁচামাল নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘প্রাকৃতিক অস্ত্র’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কার্বন শোষণের মহাক্ষমতা আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামুদ্রিক শৈবাল স্থলভাগের বনের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে সক্ষম।
২০২৫ সালে সেন্ট মার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে যে পরিমাণ শৈবাল চাষ হয়েছে, তা বাংলাদেশের বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের ৩ শতাংশ শোষণে সক্ষম হয়েছে। সমুদ্রবিজ্ঞানী ড. সায়েদুর রহমান বলেন, “আমরা একে বলছি ‘লিকুইড ফরেস্ট’। এই শৈবাল একদিকে সাগরের অম্লতা (Acidity) কমাচ্ছে, অন্যদিকে মাছের প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
অর্থনৈতিক দিগন্ত ও কর্মসংস্থান: ২০২৬ সালের এই সময়ে কক্সবাজার উপকূলে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও পুরুষ সরাসরি শৈবাল চাষে যুক্ত হয়েছেন। এখান থেকে উৎপাদিত ‘আগার-আগার’ এবং ‘ক্যারাজিনান’ এখন ইউরোপ ও জাপানে রপ্তানি হচ্ছে।
এর ফলে প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের বিকল্প হিসেবে ‘শৈবাল-পলিমার’ তৈরির তিনটি বড় কারখানা চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়েছে। এটি পাটের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব রপ্তানি পণ্য হওয়ার পথে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: তবে এই বিপ্লবের পেছনে কিছু ঝুঁকিও আছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শৈবালের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
তাই ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) তাপসহনশীল শৈবালের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করছে যে, সমুদ্র কেবল সম্পদ নয়, সমুদ্রই হতে পারে আমাদের আগামী দিনের ফুসফুস।
