স্মার্ট সুন্দরবন ২০২৬
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এখন আর কেবল প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল নয়। ২০২৬ সালে এসে সুন্দরবন রক্ষা পাচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মার্ট সুন্দরবন প্রকল্প’।
গত এক বছরে এই বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বায়ো-অ্যাকোস্টিক সেন্সরের ব্যবহার চোরা শিকারীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

প্রযুক্তির গভীর বিশ্লেষণ: বন যখন নিজেই কথা বলে
সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে ৫০০০-এর বেশি ‘স্মার্ট বায়ো-অ্যাকোস্টিক সেন্সর’ লাগানো হয়েছে। এই সেন্সরগুলো বনের প্রতিটি শব্দ শোনে। যদি কোথাও করাতের শব্দ, গুলির শব্দ বা মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, তবে এআই মুহূর্তের মধ্যে সেই শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি বিশ্লেষণ করে বন বিভাগের কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট পাঠায়।
একই সাথে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ঘটনাস্থলের দিকে উড়ে যায় এবং ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং শুরু করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির কারণে বনের ভেতরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ৭৫% হ্রাস পেয়েছে।
বাঘ ও ডলফিন শুমারি যখন রিয়েল-টাইমে
আগে বাঘ শুমারির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন প্রতিটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গায়ের ডোরাকাটা ছাপ এআই ইমেজ প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।
সুন্দরবনের নদীগুলোতে গাঙ্গেয় ডলফিনের সংখ্যা নির্ণয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে আন্ডার-ওয়াটার হাইড্রোফোন। ২০২৬ সালের সর্বশেষ ডাটা বলছে, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বর্তমানে ১৫৫টি, যা গত দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অর্থনৈতিক ও পর্যটন প্রভাব
প্রযুক্তির এই সফলতার ফলে সুন্দরবনে ‘ইকো-ট্যুরিজম’ বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকরা এখন বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে বনের নির্দিষ্ট নিরাপদ এলাকা এবং প্রাণীদের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারেন।
এর ফলে পর্যটন থেকে আয় গত বছরের তুলনায় ৪০% বেড়েছে। সরকার এই আয়ের একটি অংশ সরাসরি বন সংলগ্ন গ্রামের মানুষের জন্য বরাদ্দ করছে, যাতে তারা বনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সংরক্ষণে সাহায্য করে।
দৃষ্টিভঙ্গি: সুন্দরবনকে ২০২৬ সালে এসে আমরা একটি ‘ডিজিটাল ফোর্ট্রেস’ বা ডিজিটাল দুর্গে পরিণত করেছি। প্রযুক্তি এবং প্রকৃতির এই মেলবন্ধন বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
