২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহে ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য এক নতুন আশার খবর নিয়ে এসেছে।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, যদি অতি-আহরিত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত কোরাল রিফগুলোকে (Coral Reefs) বিজ্ঞানসম্মতভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, তবে আগামী দুই বছরেই মাছের উৎপাদন প্রায় ৫০% বাড়ানো সম্ভব। এই গবেষণাটি ২০২৬ সালের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির জন্য এক বিশাল মোড় পরিবর্তনকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘সাউন্ড থেরাপি’ এবং ‘লার্ভা পোস্টিং’ প্রযুক্তি। বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের সুস্থ রিফের শব্দ রেকর্ড করে ধ্বংসপ্রাপ্ত রিফে বাজাচ্ছেন, যা সামুদ্রিক প্রাণীদের সেই জায়গায় ফিরে আসতে প্রলুব্ধ করছে।
একই সাথে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা তাপ-সহনশীল কোরাল লার্ভাগুলো বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করে রিফে স্থাপন করা হচ্ছে। গত ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিতে মালদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে মাছের সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়েছে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আয় দ্বিগুণ করেছে।
এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ তাদের প্রোটিনের জন্য সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল। কোরাল রিফ পুনরুদ্ধার মানেই হলো খাদ্য নিরাপত্তার গ্যারান্টি। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ এই প্রকল্পে ‘ব্লু বন্ড’ (Blue Bond) এর মাধ্যমে বড় অংকের ঋণ দিচ্ছে।
এটি পরিবেশ এবং অর্থনীতির মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের এই সংবাদটি আমাদের শেখাচ্ছে যে, প্রকৃতিকে যদি আমরা একটু সুস্থ হওয়ার সুযোগ দিই, তবে সে আমাদের বহুগুণ বেশি ফিরিয়ে দেয়।
