ঢাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদী দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত শিল্পবর্জ্য ও পয়োবর্জ্যের কারণে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যাকে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মাছ বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত বা ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে এর মাঝেই এক যুগান্তকারী ও অভাবনীয় আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন গবেষকরা।
সম্প্রতি পরিচালিত এক বিশেষ পরিবেশগত ও জীববৈচিত্র্য সমীক্ষায় অত্যন্ত দূষিত এই বুড়িগঙ্গা নদীতে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন ও সংকটাপন্ন প্রায় ২০টি গাঙ্গেয় ডলফিনের (Ganges River Dolphin) বেঁচে থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে, যা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে।
গবেষণার মূল তথ্য ও বাস্তুতন্ত্রের সংকট: পরিবেশ গবেষক ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বুড়িগঙ্গার পানির গুণগত মান এবং জলজ প্রাণীর টিকে থাকার লড়াই নিয়ে যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তাতে নতুন আশার আলো দেখা গেলেও উদ্বেগ কাটেনি:
- অসম্ভব প্রতিকূলতায় টিকে থাকা: যেখানে বুড়িগঙ্গার কালো ও বিষাক্ত পানিতে দেশীয় প্রজাতির সাধারণ মাছের অস্তিত্ব প্রায় হারিয়ে গেছে, সেখানে সুদূর প্রাগৈতিহাসিক এই স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলোর বেঁচে থাকা প্রমাণ করে যে নদীটির নির্দিষ্ট কিছু গভীর ও স্রোতযুক্ত অংশে এখনো সামান্য প্রাণশক্তি টিকে রয়েছে। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ড. আমিনুর রহমান জানান, বুড়িগঙ্গার মতো একটি মারাত্মক দূষিত নদীর নাব্যতায় ডলফিনের এই উপস্থিতি তাদের অভিযোজন ক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
- সংরক্ষণ ও কঠোর ব্যবস্থার তাগিদ: পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, এই ডলফিনগুলোকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে বুড়িগঙ্গায় ট্যানারি ও কারখানার তরল বর্জ্য ফেলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই বিরল জলজ প্রাণীকুল চিরতরে হারিয়ে যাবে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: বুড়িগঙ্গার চরম দূষণের মাঝেও ডলফিনের বেঁচে থাকার এই ঘটনা যেমন বিস্ময়কর, তেমনি এটি আমাদের নদী ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতারও এক বড় প্রতিচ্ছবি।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শুধু ডলফিন রক্ষা নয়, বরং বুড়িগঙ্গার হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার এই শেষ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
