বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, আরবান হিট আইল্যান্ড (Urban Heat Island) প্রভাবে তীব্র গরম এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী ও প্রকৃতিভিত্তিক পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।
সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK) এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে জানানো হয়েছে যে, শহরের তাপমাত্রা কমাতে এবং প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে ছাদবাগান, উল্লম্ব বাগান (Vertical Gardening) এবং জলাধার সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
পরিকল্পনা ও কৌশলগত পদক্ষেপ: ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ও জলবায়ু সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (DAP 2022-2035)-এর আওতায় বেশ কিছু কঠোর ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে:
- ব্লু-গ্রিন নেটওয়ার্ক ও জলাধার সুরক্ষা: শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত জলাশয়, নদী ও খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষার্থে ডিএপি (DAP)-এর মাধ্যমে জলপ্রবাহ জোন বা ফ্লাড-ফ্লো জোনগুলোতে যেকোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া গুলশান-বনানী লেকসহ অন্যান্য হ্রদ ও পুকুর আইনি সুরক্ষার আওতায় এনে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের কাজ চলছে।
- ছাদবাগান ও সবুজ স্থাপত্য: রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, নতুন অনুমোদিত বহুতল ভবনগুলোতে রেইনওয়াটার হারভেস্টিং বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার এবং ভবনের ছাদ বা দেয়ালে সবুজায়নকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কংক্রিটের অতিরিক্ত ব্যবহার ও কাঁচের তৈরি ভবনের কারণে শহরের তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তা প্রতিরোধে এই সবুজ উদ্যোগগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে।
উপসংহার ও গ্রিনপেজ দৃষ্টিভঙ্গি: অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং জলাভূমি ভরাটের কারণে ঢাকাকে এক কংক্রিটের উনুনে পরিণত করা হয়েছে।
গ্রিনপেজ বিশ্বাস করে, শুধু নীতিমালায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে প্রতিটি ভবনে ছাদবাগান এবং প্রাকৃতিক জলাধারগুলো কঠোরভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে তবেই ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রাণবন্ত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।
