প্লাস্টিক দূষণের চিরস্থায়ী সমাধান? ২০২৬-এ বায়ো-এনজাইম এবং BAETA উপাদানের সফল ব্যবহার
প্লাস্টিক দূষণ আধুনিক বিশ্বের এক অবিচ্ছেদ্য অভিশাপ। কিন্তু ২০২৬ সালে বিজ্ঞানীদের একটি উদ্ভাবন এই অভিশাপ থেকে মুক্তির আশা দেখাচ্ছে।
কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদরা পুরনো প্লাস্টিক বোতল থেকে ‘BAETA’ নামক একটি নতুন উপাদান তৈরি করেছেন, যা সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। এই আবিষ্কারটি কেবল প্লাস্টিক বর্জ্য কমাবে না, বরং ফেলে দেওয়া বোতলকে একটি কার্যকরী কার্বন ফিল্টারে পরিণত করবে।
একই সাথে, জাপানি বিজ্ঞানীদের একটি দল বাণিজ্যিকভাবে ‘প্লাস্টিক-ইটিং ব্যাকটেরিয়া’ বা প্লাস্টিক ভক্ষণকারী অণুজীব সমৃদ্ধ বায়ো-রিঅ্যাক্টর ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে।
এই ব্যাকটেরিয়াগুলো পলিথিন এবং পেট (PET) প্লাস্টিককে কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেঙে জৈব উপাদানে পরিণত করতে পারে। ২০২৬ সালে অনেক বড় বড় পৌরসভা তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে এই বায়ো-রিঅ্যাক্টরগুলো স্থাপন শুরু করেছে। এর ফলে ল্যান্ডফিল বা সমুদ্রে প্লাস্টিক জমা হওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।
এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো ‘প্লাগ ফ্লো ইলেকট্রিসিটি’। বৃষ্টির জল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি নতুন পদ্ধতি ২০২৬ সালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
উল্লম্ব পাইপের মধ্যে বৃষ্টির জলের প্রবাহকে ব্যবহার করে ১০% এরও বেশি শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। এই ক্ষুদ্রাকার টারবাইনগুলো এখন ভবনের ড্রেনেজ সিস্টেমে লাগানো হচ্ছে, যা রাতে রাস্তার বাতি জ্বালানোর মতো পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করছে।
এছাড়াও কৃষিজমিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করার জন্য বিশেষ সেন্সর এবং স্মার্ট লেপ (Smart Coatings) তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাগরের চেয়ে এখন কৃষিজমিতে প্রায় ২৩ গুণ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে যা আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে।
২০২৬ সালের এই নতুন প্রযুক্তিগুলো মাটি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক আলাদা করতে এবং মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করছে। এই উদ্ভাবনগুলো প্রমাণ করে যে, মানুষের সৃজনশীলতা যদি প্রকৃতির সাথে মিলে কাজ করে, তবে কোনো সমস্যাই সমাধানযোগ্য নয়।
