যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল ঢেউয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার একর জমি বিলীন হওয়া বাংলাদেশের এক চিরস্থায়ী শোকের গল্প। কিন্তু ২০২৬ সালের এই বর্ষা মৌসুমের আগে সিরাজগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দেখা যাচ্ছে এক নতুন দৃশ্য। সেখানে আর প্লাস্টিকের ‘জিও-ব্যাগ’ (GEO-Bag) নয়, বরং ব্যবহার করা হচ্ছে উচ্চ প্রযুক্তির ‘জুট জিওটেক্সটাইল’। এটি বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় এক আমূল পরিবর্তন এবং পরিবেশ রক্ষার এক বিশাল বিজয়।

কেন জুট জিওটেক্সটাইল? প্লাস্টিকের জিও-ব্যাগগুলো কয়েক বছর পর ছিঁড়ে গিয়ে নদীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে দিত, যা মাছ ও ইকো-সিস্টেমের জন্য ছিল মারাত্মক ক্ষতিকর। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে এই ‘হাই-ডেনসিটি জুট ম্যাট’ উদ্ভাবন করে। এটি মাটির সাথে মিশে গিয়ে জৈব সার তৈরি করে এবং এর বুনন এতই শক্তিশালী যে এটি নদীর তীব্র স্রোতও সহ্য করতে পারে।
নদী পাড়ে সবুজের ছোঁয়া আমাদের প্রতিনিধি যখন সিরাজগঞ্জের যমুনা পাড়ে যান, তখন তিনি দেখেন যে এই জুট জিওটেক্সটাইল ব্যবহারের ফলে পাড়ে ঘাস ও ছোট ছোট গাছ দ্রুত জন্ম নিচ্ছে। কারণ পাটের আঁশ আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং উদ্ভিদের জন্মানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে নদীর পাড় এখন আর কেবল পাথরের বাঁধ নয়, এটি একটি জীবন্ত সবুজ দেয়ালে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালে প্লাস্টিক ব্যাগ আমদানির বদলে দেশীয় পাট ব্যবহার করায় সরকারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সাথে বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি জুট মিল পুনরায় সচল হয়েছে। নদী ভাঙন রোধের এই ‘বাংলাদেশি মডেল’ এখন নেদারল্যান্ডস ও ভিয়েতনামও অনুসরণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
