সৌরশক্তিতে নতুন রেকর্ড: ২০২৬-এ বাজারে আসছে ৩৪% কার্যক্ষমতার হাইব্রিড সোলার প্যানেল
সৌরশক্তির ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গবেষকরা সফলভাবে পারভস্কাইট-সিলিকন ট্যানডেম (Tandem) সোলার সেল বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ল্যাবরেটরিতে এই সেলের কার্যক্ষমতা ইতিমধ্যে ৩৪% ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রথাগত সিলিকন প্যানেলের (যার গড় দক্ষতা সাধারণত ২০-২৪%) তুলনায় অনেক বেশি। এই বৈজ্ঞানিক ব্রেকথ্রু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেবে এবং স্বল্প জায়গাতেই অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করবে।
পারভস্কাইট হলো এমন একটি খনিজ কাঠামো যা আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করতে অত্যন্ত দক্ষ। যখন এটিকে প্রচলিত সিলিকন স্তরের ওপর বসানো হয়, তখন এটি সূর্যের আলোর একটি বিশাল অংশকে বিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারে যা সিলিকন একাকী পারে না।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানি এবং ইউরোপের স্টার্টআপগুলো এই হাইব্রিড প্যানেলগুলো বড় আকারে উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্যানেলগুলো কেবল ছাদেই নয়, বরং জানালার কাঁচ বা গাড়ির বডির ওপর পাতলা স্তর হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
এই সাফল্যের পেছনে অন্যতম বড় ভূমিকা রেখেছে ন্যানো-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই-চালিত উপাদান আবিষ্কার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এমন একটি স্থায়িত্বশীল রাসায়নিক সংমিশ্রণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যা পারভস্কাইটের সাধারণ স্থায়িত্বের সমস্যা (আর্দ্রতা ও তাপে নষ্ট হওয়া) সমাধান করেছে।
এখন এই প্যানেলগুলো ২৫ বছরের ওয়ারেন্টি সহ বাজারে আসার যোগ্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের খরচ (LCOE) আগামী দুই বছরের মধ্যে অন্তত ৩০% কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই ব্রেকথ্রুর পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা পরিবেশগত ঝুঁকির দিকেও নজর দিচ্ছেন। পারভস্কাইট সেলে সামান্য পরিমাণে সীসা (Lead) ব্যবহৃত হয়, যা নষ্ট প্যানেল থেকে পরিবেশে মিশে যেতে পারে।
এজন্য ২০২৬ সালে নতুন একটি বৈশ্বিক নীতি প্রস্তাব করা হয়েছে যেখানে সোলার প্যানেল রিসাইক্লিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিজয় নয়, এটি ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মানবজাতির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারগুলোর একটি হয়ে উঠবে।
