বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের দিগন্তজোড়া নীল জলরাশি এখন আর কেবল মাছ ধরার ক্ষেত্র নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে দেশের নতুন অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজ। ২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’ এক অভাবনীয় মোড় নিয়েছে সামুদ্রিক শৈবাল (Seaweed) চাষের মাধ্যমে।
বৈশ্বিক বাজারে যার চাহিদা এখন বিলিয়ন ডলারের ওপর, বাংলাদেশ সেই সুযোগটি গ্রহণ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে।
কেন এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড?
বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ এবং রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে সামুদ্রিক শৈবাল এখন এক নম্বর পছন্দ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এমন কিছু শৈবালের প্রজাতি উদ্ভাবন করেছেন যা বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ততা ও তাপমাত্রায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই শৈবাল থেকে তৈরি হচ্ছে ‘বায়ো-প্লাস্টিক’, যা পচনশীল এবং পরিবেশবান্ধব।
দেশের প্রথম বৃহৎ ‘শৈবাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র’ গত মাসে মহেশখালীতে উদ্বোধন করা হয়েছে, যা ইউরোপ এবং জাপানে রপ্তানি শুরু করেছে।
পরিবেশগত প্রভাব: সমুদ্রের কার্বন সিঙ্ক
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের ১ বর্গ কিলোমিটার শৈবাল খামার যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে, তা ২০ একর বনের সমান। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে গত দুই বছরে প্রায় ৫০০ হেক্টর এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।
এর ফলে উপকূলীয় জলের অম্লতা (Acidification) হ্রাস পাচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ক্ষমতা ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি কেবল ব্যবসা নয়, এটি সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান রক্ষার একটি প্রাকৃতিক ঢাল।
অর্থনৈতিক বিপ্লব ও নারী ক্ষমতায়ন
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো উপকূলীয় নারী শক্তি। প্রায় ৫০ হাজার নারী এখন সরাসরি এই শৈবাল চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে যুক্ত। প্রথাগত লবণ চাষ বা মাছ ধরার চেয়ে শৈবাল চাষে লাভ প্রায় তিনগুণ বেশি।
২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই খাত থেকে বাংলাদেশ বছরে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা একে বলছেন বাংলাদেশের ‘সবুজ স্বর্ণ’।
উপসংহার: বঙ্গোপসাগরের এই নীল বিপ্লব কেবল বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে এক নতুন এবং টেকসই জীবনের পথ দেখাচ্ছে। এটি ২০২৬ সালের বাংলাদেশের পরিবেশগত সবচেয়ে সফল মডেল।
