২০২৬ সালের ১৮ মার্চ। বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলে দাঁড়িয়ে তাকালে এক সময়কার আলকাতরার মতো কালো জল এখন অনেকটাই স্বচ্ছ। দুর্গন্ধের পরিবর্তে নদীর পাড়ে এখন বিশুদ্ধ বাতাসের ছোঁয়া।
নেদারল্যান্ডস এবং বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বুড়িগঙ্গায় বসানো হয়েছে ‘ফ্লোটিং ইন্টারসেপ্টর’ বা ভাসমান বর্জ্য সংগ্রাহক, যা নদীকে প্লাস্টিক মুক্ত করার লড়াইয়ে জয়ী করেছে।
প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করছে? বুড়িগঙ্গার বিভিন্ন মোহনায় পাঁচটি বিশাল ‘ইন্টারসেপ্টর’ রোবট বসানো হয়েছে। এই রোবটগুলো স্রোতের সাথে আসা প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাঁকনির মাধ্যমে তুলে নেয়।
২০২৬ সালের ডেটা অনুযায়ী, এই মেশিনগুলো প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী থেকে সংগ্রহ করছে, যা আগে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ত।
বর্জ্য থেকে সম্পদ: সংগৃহীত এই প্লাস্টিকগুলো নদীর পাড়েই স্থাপিত একটি রিফাইনারিতে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে প্লাস্টিক গলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা তৈরির বিটুমিন এবং জ্বালানি তেল। ২০২৬ সালে বুড়িগঙ্গার বর্জ্য এখন একটি লাভজনক কাঁচামালে পরিণত হয়েছে।
নাগরিক সচেতনতা ও ভবিষ্যৎ: নদীর দুই পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল সবুজ পার্ক এবং ওয়াকওয়ে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর গভীরতা বাড়ানো হয়েছে, ফলে মাছের আনাগোনা আবার দেখা যাচ্ছে।
২০২৬ সালের এই বুড়িগঙ্গা প্রমাণ করছে যে, মরণাপন্ন নদীকেও যদি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আর রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে সেবা করা যায়, তবে তা আবার জীবন ফিরে পায়।
