অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল প্রাচীর যখন ধ্বংসের মুখে ছিল, তখন ২০২৬ সালে ‘বায়োরক’ (Biorock) প্রযুক্তি সেখানে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
বাংলাদেশের সমুদ্রবিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত প্রবালগুলোকে আবার সজীব করে তুলেছেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দ্বীপের চারপাশে পানির নিচে তাকালে দেখা যাচ্ছে নীল ও লাল রঙের নবজাতক প্রবালের এক বিশাল বাগান।
বায়োরক কীভাবে কাজ করে? বায়োরক হলো একটি বিশেষ ধরণের ইস্পাতের কাঠামো যা সমুদ্রের তলদেশে বসানো হয়। এতে অত্যন্ত নিম্ন মাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়।
এই বিদ্যুতের প্রভাবে সমুদ্রের জলে থাকা খনিজ পদার্থগুলো কাঠামোর চারপাশে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের একটি স্তর তৈরি করে, যা প্রবালের প্রাকৃতিক কঙ্কালের মতো।
২০২৬ সালের এই প্রজেক্টে দেখা গেছে, এই প্রযুক্তিতে প্রবাল সাধারণের চেয়ে ৫ গুণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিকূল তাপমাত্রায়ও বেঁচে থাকে।
পর্যটন ও পরিবেশের মেলবন্ধন: ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে এবং প্রতিটি পর্যটককে ‘ইকো-ট্যাক্স’ দিতে হচ্ছে। এই ট্যাক্সের টাকা সরাসরি বায়োরক প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়।
পর্যটকরা এখন বিশেষ কাঁচের নৌকায় চড়ে পানির নিচে এই কৃত্রিম প্রবাল বাগান দেখতে পারছেন, যা দ্বীপের পর্যটনকে বিশ্বমানের করে তুলেছে।
জীববৈচিত্র্যের ফিরে আসা: আমাদের ডাইভিং টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বায়োরক কাঠামোর আশেপাশে রঙিন মাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ এবং বিরল প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের সংখ্যা ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেন্ট মার্টিন এখন কেবল একটি বালুকাময় দ্বীপ নয়, এটি এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে।
