জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০২৫ সালে ব্রাজিল ও ভিয়েতনামে কফি উৎপাদন সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কফির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
এই সংকট কাটাতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাজারে এসেছে ‘সেলুলার কফি’ বা ল্যাব-গ্রোন কফি। ফিনল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে কফি গাছের কোষ থেকে সরাসরি এই কফি বিন তৈরি করা হয়েছে। এটি ২০২৬ সালের খাদ্য প্রযুক্তির অন্যতম বড় ট্রেন্ড।
এই কফি উৎপাদনে কোনো চাষযোগ্য জমি, কীটনাশক বা প্রচুর জলের প্রয়োজন হয় না। ল্যাবরেটরিতে তাপমাত্রা এবং পুষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে হুবহু অ্যারাবিকা বা রোবাস্টা কফির স্বাদ ও সুগন্ধ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
২০২৬ সালের অন্ধ স্বাদের পরীক্ষায় (Blind Taste Test) বিশেষজ্ঞরাও আসল কফি এবং ল্যাব কফির মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাননি। এটি কফি প্রেমীদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
অর্থনৈতিকভাবে এটি কফি ইকোনমিতে এক নতুন কম্পিটিশন তৈরি করেছে। প্রথাগত কফি চাষীরা শুরুতে চিন্তিত হলেও, ২০২৬ সালের এই প্রযুক্তি মূলত ‘মাস মার্কেট’ বা সাধারণ ব্যবহারের জন্য। প্রিমিয়াম কফি এখনও চাষীদের হাতেই থাকছে।
এই উদ্ভাবনের ফলে কফি চাষের জন্য বনাঞ্চল ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে। ২০২৬ সালে আমাদের সকালের এক কাপ কফি এখন আর পরিবেশ ধ্বংসের কারণ নয়, বরং এটি একটি টেকসই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রতীক।
