২০২৬ সালের এই খরা মৌসুমে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের মুখে আর চিন্তার ভাঁজ নেই। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি বা লোডশেডিংয়ের ভয় এখন অতীত।
সরকারের ‘সেচ ব্যবস্থায় সৌরশক্তি ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ সেচ পাম্প এখন সৌরশক্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটি কেবল কৃষকের খরচ কমায়নি, বরং বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ কমাতে এক বিশাল ভূমিকা পালন করছে।
ডিজেল বনাম সৌরশক্তি আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে কৃষকের যেখানে ৩০০০ টাকা খরচ হতো, ২০২৬ সালে সৌর পাম্পের কারণে তা মাত্র ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।
এই পাম্পগুলো স্মার্ট গ্রিডের সাথে যুক্ত। যখন সেচের প্রয়োজন থাকে না, তখন পাম্প থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে চলে যায়, যা থেকে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করছেন।
পরিবেশগত প্রভাব: ডিজেল পাম্প থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং উচ্চ শব্দ উত্তরবঙ্গের শান্ত পরিবেশকে বিষিয়ে তুলত। ২০২৬ সালে সেই দূষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে।
এছাড়া সৌর পাম্পের সাথে যুক্ত করা হয়েছে ‘সেন্সর-বেজড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’, যা মাটির প্রয়োজন বুঝে জল ছাড়ে। এতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর অতিরিক্ত নিচে নেমে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
অর্থনৈতিক মুক্তি: জ্বালানি আমদানিতে সরকারের কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, ২০২৬ সালে এই বিপ্লবের ফলে ধানের উৎপাদন খরচ কমায় চালের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। উত্তরবঙ্গ এখন আধুনিক পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
