আকস্মিক বন্যায় ক্ষতির মুখে কৃষি পরিবেশ
বৃষ্টিতে তিস্তা, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ বন্যা দেখা দিয়েছে৷ ফলে অনেক ফসলি জমি ডুবে গেছে উত্তরের কয়েকটি জেলায়৷ শস্যক্ষেত ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকেরা৷
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড৷ ভেঙ্গে গেছে তিস্তা ব্যারাজের সড়কের ফ্লাড বাইপাস, খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট৷ হঠাৎ বন্যায় গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক, চর চল্লিশা, আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, নোহালী ও গজঘণ্টার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার এখন পানিবন্দি৷
নদীঘেঁষা চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে উঁচু জায়গায়৷ লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চরইশরকুল, ইছলি, পূর্ব ইছলি, পশ্চিম ইছলি ও শংকর, বাগেরহাট,কেল্লারহাটসহ বেশকিছু নিচু এলাকায় কৃষিজমি ডুবে গেছে৷ চর চল্লিশার ৫০ বছর বয়সি কৃষক রহমত আলী বলেন, “পানির নিচে থাকলে আলুগুলো নষ্ট হয়ে যাবে৷
কিছুদিন আগেই লাগিয়েছিলাম, এখনই তুলতে হচ্ছে৷ অনেক ক্ষতি হয়ে গেল, জানি না কীভাবে মহাজনের ঋণ শোধ করব৷”
আরেক কৃষক মনসুর বলেন, “গতবার আলুতে অনেক লোকসান হয়েছে তাই এবার আগাম আলু চাষ করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলাম৷
কিন্তু সব সপ্ন পনিতেই ডুবে গেল৷” মাত্র কয়েকদিন আগেই ৪০ শতক জমিতে রোমানা জাতের হাইব্রিড আলুর বীজ লাগিয়েছেন চর ছালাপাকের আলুচাষি হালিম মিয়া৷ জমি থেকে আলুর বীজগুলো তুলতে না পারলে সব পচে যাবে বলে আশঙ্কা তার৷
এদিকে শুধু বীজ লাগাতেই প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আরেক চাষি কামাল হোসেনের যা দুদিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় শেষ৷ গতকাল হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়ায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বাগেরহাট এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম মিয়ার লাগানো সব ফসলই পানিতে তলিয়ে গেছে৷
তবে তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মর্নেয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন৷
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, “উজানে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিস্তা পয়েন্টে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ পানিপ্রবাহ৷ এজন্য আমরা তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ অব্যাহত রেখেছি৷”