কপ-৩০ এবং ব্রাজিলের নেতৃত্ব: ২০২৬-এ নতুন এনডিসি (NDC) এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার
আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে ২০২৬ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশগুলো তাদের নতুন Nationally Determined Contributions (NDC) বা জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা জমা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ-৩০ (COP30) এর ফলাফলগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে ২০২৬-এ।
এবারের নীতিমালায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ (Loss and Damage) ফান্ডের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়া, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব দেশগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেবে।
আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) একটি ঐতিহাসিক মতামত প্রদান করেছে যেখানে বলা হয়েছে যে, দেশগুলোর একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার।
এই রায়ের ফলে এখন যেকোনো দেশের নাগরিকরা তাদের সরকারের বিরুদ্ধে পরিবেশগত গাফিলতির জন্য মামলা করতে পারবে। ২০২৬ সালে জলবায়ু ন্যায়বিচার (Climate Justice) কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি একটি আইনি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন সীমান্ত কর (CBAM) এখন পুরোদমে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যেসব দেশ তাদের শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমাবে না, তাদের পণ্য ইউরোপে রপ্তানি করতে অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে। এটি চীন, ভারত এবং ব্রাজিলের মতো বড় অর্থনীতিগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে তাদের শিল্পকে আরও সবুজ করার জন্য।
২০২৬ সালে ‘ক্লাইমেট ক্লাব’ নামক একটি নতুন জোট গঠিত হয়েছে, যেখানে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সবুজ প্রযুক্তি আদান-প্রদান এবং শুল্কমুক্ত পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে বৈশ্বিক এই ঐক্যের মাঝেও কিছু ফাটল দেখা দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলো এখনও তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ১০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক তহবিল পুরোপুরি সরবরাহ করতে না পারায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
২০২৬ সালে গ্লাসগো প্যাক্টের পুনরালোচনা করার সময় দেশগুলো কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পুরোপুরি বন্ধের (Phase-out) সময়সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে।
তবুও, ২০২৬ সালটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এমন এক বছর হিসেবে থাকবে যখন বিশ্ববাসী বুঝতে পেরেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একা কোনো দেশ নয়, বরং সমষ্টিগত পদক্ষেপই শেষ কথা।
