২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এক ঐতিহাসিক রায়ে ‘ইকোসাইড’ বা প্রকৃতি ধ্বংসকে রোম সংবিধির অধীনে পঞ্চম আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধের মতো একইভাবে এখন থেকে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিচার করা যাবে।
বিগত দুই দশক ধরে পরিবেশবাদীরা দাবি করে আসছিলেন যে, কর্পোরেট মুনাফার জন্য আমাজন উজাড় করা বা সমুদ্রে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। ২০২৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্টে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড এবং একটি বহুজাতিক তেল কোম্পানির তেল নিঃসরণের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জনমত গড়ে ওঠে।
এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো প্রথম এই আইনের খসড়া তৈরি করে। ২০২৬ সালের এই নতুন আইনে কোনো কোম্পানির সিইও বা কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যদি জানেন যে তাদের সিদ্ধান্তে দীর্ঘমেয়াদী এবং অপূরণীয় পরিবেশগত ক্ষতি হবে, তবে তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এর ফলে ইতিমধ্যে ব্রাজিলের তিন বড় কৃষি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এই আইন কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে। বীমা কোম্পানিগুলো এখন উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী প্রকল্পের বীমা করতে অস্বীকার করছে। ওয়াল স্ট্রিটের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা ‘ইকোসাইড’ মামলার ভয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি খাত থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছেন। এটি কি পৃথিবীর রক্ষাকবচ হবে নাকি এটি কেবল কাগজের আইন? এই প্রশ্নটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
