বন উজাড় এবং দাবানল রুখতে ২০২৬ সালে বনকর্মীরা এখন আর কেবল লাঠি বা ড্রোন নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন না। তারা এখন ব্যবহার করছেন ‘ইন্টারনেট অফ ট্রিস’ (Internet of Trees)। আমাজন থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার রেইনফরেস্ট—হাজার হাজার গাছের গায়ে লাগানো হয়েছে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং বায়ো-ডিগ্রেডেবল (পচনশীল) সেন্সর।
এই সেন্সরগুলো গাছের ‘ভাষা’ বোঝে। অর্থাৎ, একটি গাছে যখন কুড়ালের কোপ পড়ে বা আগুন লাগার উপক্রম হয়, তখন সেই কম্পন বা ধোঁয়া শনাক্ত করে সেন্সরটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস বা বন কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে দেয়।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এটি কেবল বিপদের সংকেত দেয় না, বরং বনের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করে। সেন্সরগুলো মাটির আর্দ্রতা, গাছের সালোকসংশ্লেষণের হার এবং বনের কার্বন শোষণের পরিমাণ রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারে কোন এলাকায় খরা হতে পারে বা কোথায় পোকামাকড়ের আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালে ব্রাজিলে এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অবৈধ গাছ কাটার হার ৬০% কমে গেছে।
অর্থনৈতিকভাবে, এই ‘স্মার্ট ফরেস্ট’ এখন কার্বন ট্রেডিংয়ের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। বিনিয়োগকারীরা এখন নিশ্চিত হতে পারছেন যে তারা যে বনের জন্য টাকা দিচ্ছেন, তা আসলেই টিকে আছে এবং কার্বন শোষণ করছে।
এই ডিজিটাল পাহারা ২০২৬ সালে বনের প্রতিটি গাছকে একেকটি ‘ডিজিটাল সম্পদে’ পরিণত করেছে। বনের নিস্তব্ধতার মাঝে এখন লুকিয়ে আছে কোটি কোটি সেন্সরের নজরদারি, যা পৃথিবীকে আবারও সবুজ করে তোলার লড়াইয়ে নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছে।
