মৌমাছির বিলুপ্তি ঠেকাতে প্রযুক্তির লড়াই
বিশ্বজুড়ে মৌমাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। এই সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ সালে একটি বিস্ময়কর উদ্ভাবন বিশ্বের নজর কেড়েছে—‘রোবোটিক পোলিনেটর’ (Robotic Pollinators) বা যান্ত্রিক মৌমাছি।
নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্ট ইউনিভার্সিটি এবং জাপানের কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এমন সব মাইক্রো-ড্রোন তৈরি করেছে, যা হুবহু মৌমাছির মতো ফুল থেকে ফুলে উড়ে গিয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করতে পারে। এই কৃত্রিম মৌমাছিগুলো এখন ২০২৬ সালের ‘স্মার্ট ফার্মিং’-এর সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড।
মৌমাছিরা প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের বিলুপ্তি কৃষিখাতে ধস নামানোর উপক্রম করেছিল।
২০২৬ সালের এই নতুন প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা ফুলের সুগন্ধ এবং রঙের স্পেকট্রাম বিশ্লেষণ করে সেরা ফুলটি খুঁজে বের করতে পারে।
এই রোবটগুলোর গায়ে থাকা বিশেষ লিকুইড জেলের মাধ্যমে তারা পরাগরেণু সংগ্রহ করে এবং অন্য ফুলে তা ছড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই রোবোটিক মৌমাছিরা একে অপরের সাথে কমিউনিকেট করতে পারে, ঠিক যেমন আসল মৌমাছিরা তাদের ‘ওয়াগেল ড্যান্স’-এর মাধ্যমে করে।
অর্থনৈতিকভাবে এই প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইনডোর ফার্মিং এবং গ্রিনহাউসগুলোতে এই রোবটগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে, যা ফলন ২০-৩০% বৃদ্ধি করেছে।
অনেক বড় বড় এগ্রো-টেক কোম্পানি এখন ‘পোলিনেশন অ্যাজ এ সার্ভিস’ (PaaS) মডেল চালু করেছে, যেখানে কৃষকরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই রোবট মৌমাছি ভাড়া নিতে পারছেন। ২০২৬ সালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই খাতের বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তবে সমাজবিজ্ঞানীরা এবং কিছু পরিবেশবাদী এই প্রযুক্তির নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা ভালো, কিন্তু এর ফলে আমরা কি আসল মৌমাছিদের বাঁচানোর চেষ্টা থেকে সরে আসছি?
প্রকৃতির বিকল্প কি কখনো যন্ত্র হতে পারে? ২০২৬ সালের এই বিতর্ক আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। রোবোটিক মৌমাছির এই গুঞ্জন এখন বিশ্বের প্রতিটি কৃষি গবেষণাগারে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
