২০২৬-এ বৈশ্বিক জ্বালানি বিপ্লব: আইইএ-এর নতুন পথরেখা এবং ‘ই-ফুয়েল’ প্রযুক্তির জয়যাত্রা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট ‘Energy Technology Perspectives 2026’ প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এবারের রিপোর্টে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ‘ই-ফুয়েল’ (e-fuels) বা সিনথেটিক ফুয়েল এবং হাইড্রোজেন-ভিত্তিক লজিস্টিক ফ্লিট।
২০২৬ সালকে চিহ্নিত করা হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসার এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উন্নত রাসায়নিক প্রকৌশল মিলিত হয়ে কার্বন-মুক্ত পরিবহনের পথ প্রশস্ত করছে।
ই-ফুয়েল মূলত এমন এক জ্বালানি যা সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে সংগৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড ($CO_2$) এবং নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় বেশ কয়েকটি বড় আকারের ই-ফুয়েল প্ল্যান্ট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি বর্তমানের পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিনে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। বিমানে ব্যবহৃত সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল (SAF) উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি এক বৈপ্লবিক সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আইইএ-এর মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে এই খাতের বৈশ্বিক বাজারমূল্য পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২০% বৃদ্ধি পাবে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারী পরিবহনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা দূর করতে হাইড্রোজেন-চালিত লজিস্টিক ফ্লিট এখন মূলধারায় চলে আসছে। ২০২৬ সালে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রোজেন ট্রাক অন্তর্ভুক্ত করছে।
এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে মালবাহী পরিবহনের কার্বন ফুটপ্রিন্ট প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন ফিলিং স্টেশনের অবকাঠামো তৈরিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
