পরিবহন খাতের কার্বন নির্গমন কমাতে বড় জাহাজগুলোকে ইলেকট্রিক করা ছিল এক সময় অসম্ভব স্বপ্ন। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরওয়ে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন।
তারা আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝে স্থাপন করেছেন বিশ্বের প্রথম ‘ওয়্যারলেস ওশান চার্জিং হাব’। এর মাধ্যমে এখন বিশাল মালবাহী জাহাজগুলো কোনো তার ছাড়াই সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চার্জ নিতে পারবে। এই প্রযুক্তিকে ২০২৬ সালের ‘মেরিন ইভোল্যুশন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
এই চার্জিং স্টেশনগুলো মূলত ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, যা সমুদ্রের ঢেউ এবং বায়ু শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। যখন কোনো ইলেকট্রিক জাহাজ এই হাবের কাছাকাছি আসে, তখন ‘ইন্ডাকটিভ রেজোন্যান্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ জাহাজের ব্যাটারিতে ট্রান্সফার করা হয়।
এর ফলে জাহাজগুলোকে আর বন্দরে গিয়ে লম্বা সময় চার্জ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। ২০২৬ সালে প্রথম এই রুট ব্যবহার করে একটি ইলেকট্রিক জাহাজ কোনো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ছাড়াই চীন থেকে ইউরোপে পৌঁছেছে।
অর্থনৈতিকভাবে এই উদ্ভাবন শিপিং ইন্ডাস্ট্রিকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে। আগে তেলের দাম বাড়লে জাহাজের ভাড়া বাড়ত, কিন্তু এখন নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ফলে লজিস্টিক খরচ প্রায় ৩০% কমে গেছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) মনে করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক জাহাজ এই পদ্ধতিতে চলবে। তবে এই হাবগুলো তৈরি করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা বেশ ব্যয়বহুল।
২০২৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্পের জন্য ১০ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, বরং এটি সমুদ্রকে একটি বিশাল ক্লিন-এনার্জি নেটওয়ার্কে পরিণত করার প্রথম ধাপ।
