ক্লাইমেট-স্মার্ট গ্রাম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরা ও খুলনার অনেক গ্রাম আজ জলের নিচে। কিন্তু ২০২৬ সালে এই প্রতিকূলতাকে জয় করেছে বাংলাদেশের মানুষ। সরকার এবং কয়েকটি এনজিও মিলে তৈরি করেছে ‘ভাসমান স্মার্ট ভিলেজ’। এটি এমন এক ধরণের ইঞ্জিনিয়ারিং যা সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর ভেসে থাকতে পারে এবং ঘূর্ণিঝড়েও এর ক্ষতি হয় না।
কীভাবে কাজ করে এই ভাসমান দ্বীপ?
এই দ্বীপগুলো মূলত রিসাইকেল করা প্লাস্টিক এবং বিশেষ ধরণের কংক্রিটের মডিউল দিয়ে তৈরি। প্রতিটি দ্বীপে ১০০টি পরিবার থাকতে পারে। এর ছাদগুলো সোলার প্যানেলে ঢাকা, যা দিয়ে রান্নার চুলা এবং পাখা চলে। দ্বীপে বৃষ্টির জল সংগ্রহের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা দিয়ে পানের জল এবং রান্নার কাজ চালানো হয়।
খাদ্য উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ
২০২৬ সালের এই ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ গ্রামের বিশেষত্ব হলো এর ভাসমান কৃষি। ডাচ প্রযুক্তিতে মাছের চাষ এবং সবজি চাষ একই সাথে করা হচ্ছে (Aquaponics)। বাড়ির বারান্দায় ছোট ছোট চৌবাচ্চায় গলদা চিংড়ি এবং ওপরে হাইড্রোফোনিক টমেটো ও ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। উপকূলীয় মানুষেরা এখন আর সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে না, তারা নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ।
ভবিষ্যতের সমাধান
২০২৬ সালের এই মডেলটি এখন জাতিসংঘ (UN) জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ এখন আর জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার কোনো দেশ নয়, বরং আমরা বিশ্বকে শেখাচ্ছি কীভাবে সমুদ্রের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। এই ‘ফ্লোটিং আইল্যান্ড’ প্রযুক্তি ২০২৬ সালে উপকূলীয় মানুষের জীবনকে দিয়েছে নতুন মর্যাদা।
