স্থাপত্যে অণুজীবের ব্যবহার: মাইসেলিয়াম এবং কার্ডবোর্ড-মাটির সংমিশ্রণে কার্বন-নেগেটিভ ভবন
নির্মাণ শিল্প বিশ্বজুড়ে মোট কার্বন নির্গমনের প্রায় ৪০% এর জন্য দায়ী। এই সমস্যার একটি চিরস্থায়ী সমাধান নিয়ে এসেছেন জার্মানির ‘হফ ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস’ এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘আরএমআইটি’ (RMIT) ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা।
তারা ছত্রাকের মূল বা শিকড় (Mycelium) এবং পরিত্যক্ত কার্ডবোর্ড ও মাটির সমন্বয়ে এক নতুন ধরনের নির্মাণ সামগ্রী উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রথাগত কংক্রিটের তুলনায় চারগুণ কম কার্বন নির্গমন করে এবং এটি সম্পূর্ণ পচনশীল (Biodegradable)।
মাইসেলিয়াম হলো ছত্রাকের একটি সুক্ষ্ম সুতার মতো নেটওয়ার্ক। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষি বর্জ্য যেমন খড় বা কাঠের গুঁড়োর ওপর মাইসেলিয়াম চাষ করলে সেটি কয়েক দিনের মধ্যে একটি শক্ত কাঠামোর রূপ নেয়।
এরপর এটিকে উত্তপ্ত করে ছত্রাকটিকে নিস্ক্রিয় করা হয়, যার ফলে এটি একটি অত্যন্ত শক্ত, অগ্নি-প্রতিরোধী এবং জল-রোধী ব্লকে পরিণত হয়। জার্মানির ‘মাইকোবিল্ড’ (Mycobuild) প্রজেক্টের অধীনে এই উপাদানটি দিয়ে ভবন নির্মাণের প্যানেল এবং ইনসুলেশন তৈরির কাজ চলছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রাকৃতিকভাবে কার্বন সঞ্চয় করে রাখে এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো বিষাক্ত কেমিক্যাল বা উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না।
অন্যদিকে, আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মাটির সাথে কার্ডবোর্ড এবং জল মিশিয়ে ‘র্যামড আর্থ’ (Rammed Earth) প্রযুক্তিতে ভবন তৈরি করেছেন। এই প্রযুক্তিটি বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ, কারণ এটি স্থানীয়ভাবে উপলব্ধ কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি করা যায়।
এই দেওয়ালগুলো গ্রীষ্মকালে প্রাকৃতিকভাবে ঘরকে শীতল রাখে এবং শীতকালে উষ্ণতা ধরে রাখে, যা এসির ব্যবহার কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে এই মাইসেলিয়াম-ভিত্তিক নির্মাণ সামগ্রীগুলো বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে।
এটি কেবল স্থায়িত্বই নিশ্চিত করে না, বরং ভবনটি যখন পরিত্যক্ত হবে, তখন সেটি কোনো বর্জ্য তৈরি না করে সরাসরি মাটিতে মিশে গিয়ে সারের কাজ করবে। স্থাপত্যের এই নতুন ধারাকে বলা হচ্ছে ‘জৈব-স্থাপত্য’ (Bio-architecture), যা ভবিষ্যতের স্মার্ট শহরগুলোর মেরুদণ্ড হতে পারে।
