আইসবের্গ হার্ভেস্টিং
বিশ্বের অনেক দেশ যখন ভয়াবহ মিষ্টি জলের সংকটে ভুগছে, তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এক দুঃসাহসী ও বিতর্কিত প্রকল্পের দিকে হাত বাড়িয়েছে—‘আইসবের্গ হার্ভেস্টিং’ (Iceberg Harvesting)।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে তারা সফলভাবে অ্যান্টার্কটিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া একটি বিশাল হিমশৈল বা আইসবের্গকে বিশেষায়িত জাহাজের মাধ্যমে টেনে নিয়ে আসার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং ট্রেন্ডি পরিবেশগত সংবাদের শীর্ষে রয়েছে।
প্রতি বছর অ্যান্টার্কটিকা থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন টন বরফ ভেঙে সমুদ্রে মিশে যায় এবং তা লবণাক্ত জলের সাথে মিশে নষ্ট হয়। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, এই ভেঙে যাওয়া বরফের একটি সামান্য অংশও যদি সংগ্রহ করা যায়, তবে তা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
২০২৬ সালের এই মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘থার্মাল ইনসুলেশন রোপ’, যা সমুদ্রের উষ্ণ স্রোতের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বরফকে গলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। একটি মাঝারি আকারের আইসবের্গে প্রায় ২০ বিলিয়ন গ্যালন বিশুদ্ধ জল থাকে, যা একটি বড় শহরের ৫ বছরের জলের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
তবে এই প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একদল পরিবেশবাদী সতর্ক করেছেন যে, অ্যান্টার্কটিকা থেকে বিশাল বরফখণ্ড সরিয়ে নিয়ে আসা সমুদ্রের বাস্তুসংস্থান এবং তাপমাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বিশেষ করে সামুদ্রিক প্রাণীদের গতিপথ এবং সমুদ্রের স্রোতে এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে এখনও গভীর গবেষণার প্রয়োজন। অন্যদিকে, অর্থনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত লাভজনক মনে করা হচ্ছে। কারণ, সমুদ্রের জলকে লবণমুক্ত (Desalination) করার চেয়ে বরফ গলিয়ে জল সংগ্রহ করা অনেক কম বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
২০২৬ সালের এই ‘আইসবের্গ মিশন’ কেবল প্রযুক্তির জয়গান নয়, বরং এটি মানবজাতির বেঁচে থাকার এক মরিয়া প্রচেষ্টার প্রতীক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তারা নিয়মিতভাবে আইসবের্গ আমদানির পরিকল্পনা করছে।
যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক জল রাজনীতির (Water Politics) সমীকরণ বদলে দেবে। প্রকৃতি বনাম প্রযুক্তির এই দ্বৈরথ ২০২৬ সালের পরিবেশগত আলোচনার মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
