২০২৬ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) বিশ্বের কাছে কেবল সস্তা পোশাকের দেশ নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে ‘সবুজ’ বা গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে স্বীকৃত। আজ দেশের ৫০০টিরও বেশি কারখানা ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ (ZLD) সনদ অর্জন করেছে। এর অর্থ হলো, এই কারখানাগুলো থেকে এক ফোঁটা বিষাক্ত জলও নদীতে পড়ে না।
সবুজ প্রযুক্তির বিপ্লব
আগে ডায়িং বা কাপড় রঙ করার সময় প্রচুর রাসায়নিক মিশ্রিত জল নদীতে ফেলা হতো। ২০২৬ সালের আধুনিক ইটিপি (ETP) প্ল্যান্টগুলো এই জলের ৯৯.৯% পরিষ্কার করে আবার কারখানাতেই ব্যবহার করছে। এতে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার ৭০% কমে গেছে। এছাড়া কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা নিজেরাই মেটাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের আকর্ষণ
ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা এখন পোশাক কেনার সময় তার ‘ইকো-লেবেল’ যাচাই করে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রতিটি পোশাকের ট্যাগ-এ একটি কিউআর কোড থাকে, যা স্ক্যান করলে দেখা যায় সেই পোশাকটি তৈরিতে কতটুকু জল সাশ্রয় হয়েছে এবং কতটুকু কার্বন নির্গত হয়েছে। এই স্বচ্ছতার কারণে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বিশ্ববাজারে তুঙ্গে।
শ্রমিক ও পরিবেশ
পরিবেশবান্ধব কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত হওয়ায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে এবং উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প প্রমাণ করেছে যে, শিল্পায়ন মানেই পরিবেশ ধ্বংস নয়, বরং এটিই হতে পারে পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
