পরিবেশবান্ধব পোশাকের নতুন বৈশ্বিক মানদণ্ড
ফ্যাশন শিল্প বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী খাত হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই শিল্পে এক বিশাল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে ‘ডিজিটাল ফ্যাশন পাসপোর্ট’ (Digital Fashion Passport) বা ডিপিএ (DPA) এর মাধ্যমে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে বাজারে আসা প্রতিটি পোশাকের সাথে একটি ডিজিটাল কিউআর কোড বা এনএফসি চিপ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পাসপোর্টের মাধ্যমে গ্রাহকরা এক পলকেই জানতে পারছেন তাদের পোশাকটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর পরিবেশগত প্রভাব কতটুকু।
এই ডিজিটাল পাসপোর্টের মাধ্যমে একটি পোশাকের পুরো জীবনচক্রের তথ্য পাওয়া সম্ভব। যেমন—তুলোটি কোন খামারে উৎপাদিত হয়েছে, রঙ করার সময় কতটুকু জল ব্যবহার করা হয়েছে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হয়েছে কিনা এবং পোশাকটি নষ্ট হওয়ার পর কীভাবে রিসাইকেল করা যাবে।
২০২৬ সালে সচেতন গ্রাহকরা এখন আর কেবল ব্র্যান্ডের নাম দেখে কেনাকাটা করছেন না, বরং তারা পোশাকের ‘কার্বন স্কোর’ যাচাই করছেন। এর ফলে ফ্যাশন হাউসগুলো এখন ‘ফাস্ট ফ্যাশন’ থেকে সরে এসে ‘স্লো ফ্যাশন’ এবং টেকসই উপকরণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
এই ট্রেন্ডের ফলে ফ্যাশন ইকোনমিতে এক বড় পরিবর্তন এসেছে। যেসব ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা বেশি, তাদের শেয়ারের দাম বাজারে হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে, যেসব কোম্পানি তথ্যে লুকোচুরি করছে, তারা ব্যাপক জরিমানার সম্মুখীন হচ্ছে।
ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই তথ্যগুলো জালিয়াতি করা অসম্ভব, যা গ্রাহকদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালে অনেক জনপ্রিয় অ্যাপ তৈরি হয়েছে যা পোশাকের কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি তার ‘ইকোলজিক্যাল গ্রেড’ জানিয়ে দেয়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই পাসপোর্টটি পোশাকের ‘রিসেল’ বা পুনরায় বিক্রির বাজারকে চাঙ্গা করেছে। একটি পুরনো পোশাকের পাসপোর্ট দেখে তার আসল গুণমান যাচাই করা সহজ হওয়ায় মানুষ এখন পুরনো পোশাক কিনতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। এটি একটি ‘সার্কুলার ফ্যাশন ইকোনমি’ তৈরিতে সাহায্য করছে।
২০২৬ সালের এই ট্রেন্ড প্রমাণ করে যে, তথ্য যখন মানুষের হাতের মুঠোয় থাকে, তখন তারা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে শেখে। ফ্যাশন এখন আর কেবল স্টাইলের বিষয় নয়, এটি এখন পরিবেশ রক্ষার একটি সচেতন অঙ্গীকার।
