২০২৬ সালে মাংস খাওয়ার জন্য আর পশু হত্যার প্রয়োজন হচ্ছে না। সিঙ্গাপুর এবং আমেরিকার পর ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাণিজ্যিকভাবে ‘কালচারড মিট’ বা ল্যাবরেটরিতে তৈরি মাংস বিক্রির অনুমতি দিয়েছে।

এটি কেবল খাদ্য সংকট সমাধান নয়, বরং এটি গবাদি পশু থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এক বিশাল ভূমিকা পালন করছে।
প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পশুর শরীর থেকে মাত্র একটি কোষ (Cell) নিয়ে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ পুষ্টির মাধ্যমে বড় করা হয়।
২০২৬ সালের এই প্রযুক্তিতে তৈরি মাংস স্বাদে, গন্ধে এবং পুষ্টিগুণে প্রাকৃতিক মাংসের চেয়েও উন্নত এবং শতভাগ জীবাণুমুক্ত। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ল্যাব-গ্রোন মিট উৎপাদনে সাধারণ পশুপালনের চেয়ে ৯৯ শতাংশ কম জমি এবং ৮২ শতাংশ কম জল লাগে।
কৃষকদের ভবিষ্যৎ ও বাজার দর ২০২৬ সালের বাজারে সাধারণ গরুর মাংসের তুলনায় ল্যাব-গ্রোন মাংসের দাম এখন ১৫ শতাংশ কম। এর ফলে প্রথাগত ডেইরি ফার্ম এবং কসাইখানাগুলো বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ডেনমার্ক এবং হল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের কৃষকদের এখন ‘বায়ো-ফার্মার’ হিসেবে রূপান্তর করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তারা ল্যাবরেটরিতে বিশেষ ধরণের কারিগর হিসেবে কাজ শুরু করছে।
প্রাণী অধিকার সংস্থাগুলো ২০২৬ সালকে ‘এনিমেল লিবারেশন ইয়ার’ হিসেবে পালন করছে। বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন পশুকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হতো, যা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ২০ বিলিয়নে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সভ্যতার এক বড় নৈতিক বিজয়।
