এক সময় রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলকে বলা হতো ‘বাংলাদেশের মরুভূমি’। পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে যাওয়া এবং বৃষ্টির অভাব এই অঞ্চলকে জনশূন্য করার উপক্রম করেছিল।
কিন্তু ২০২৬ সালের এই বসন্তে দৃশ্যপট বদলে গেছে। সরকারের ‘গ্রিন বারিন্দ ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায় এই শুষ্ক অঞ্চলে শুরু হয়েছে এক আধুনিক কৃষি বিপ্লব। এর মূলে রয়েছে ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বা নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তি এবং প্রাচীন দেশীয় জলবায়ু সহনশীল ফসলের মিশ্রণ।
সয়েল সেন্সর ও ড্রিপ ইরিগেশন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা এখন আর ঢালাওভাবে জমিতে সেচ দেয় না। ২০২৬ সালের এই নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ফসলি জমিতে বসানো হয়েছে ‘সয়েল ময়েশ্চার সেন্সর’। যখন মাটির আর্দ্রতা একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যায়, কেবল তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোলার চালিত পাম্পের মাধ্যমে গাছের গোড়ায় জল পৌঁছে যায়।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ পদ্ধতির ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের অপচয় ৭০ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের পর ২০২৬ সালে পুরো বরেন্দ্র এলাকা এখন আম, মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের বাগানে ছেয়ে গেছে।
মরুত্ব রোধে বনায়ন ও তাপমাত্রা: কেবল কৃষি নয়, বরেন্দ্রর তাপমাত্রা কমাতে বনায়ন করা হয়েছে নতুন কৌশলে। ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় কোটি কোটি বীজ ছিটানোর ফলে ২০২৬ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা গত ৫ বছরের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। এটি উত্তরবঙ্গের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব: এই প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং ফলন বেড়েছে দ্বিগুণ। বরেন্দ্র অঞ্চল এখন বাংলাদেশের অন্যতম ‘ফ্রুট হাব’ বা ফলের ভাণ্ডার হিসেবে স্বীকৃত। বরেন্দ্রর এই পরিবর্তন বিশ্বের খরাপ্রবণ দেশগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে।
