সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘জুরাসিক পার্ক’ এখন আর কেবল কল্পনা নয়। ২০২৬ সালের শুরুতে টেক্সাস-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোলোসাল বায়োসায়েন্সেস’ (Colossal Biosciences) এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে।
তারা সফলভাবে উলি ম্যামথ (Woolly Mammoth)-এর হাইব্রিড ভ্রূণ তৈরি করেছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে প্রথম বাচ্চা ম্যামথের জন্মের আশা প্রকাশ করছে। এই সংবাদটি কেবল বিজ্ঞানের জয়গান নয়, বরং এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এক নতুন এবং বিতর্কিত ট্রেন্ড—‘ডি-এক্সটিংক্ট’ (De-extinction) বা বিলুপ্ত প্রাণীকে ফিরিয়ে আনা।
বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা হলো, এই ম্যামথগুলোকে সাইবেরিয়া এবং উত্তর মেরুর তুন্দ্রা অঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কেন? এর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। বর্তমানে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে উত্তর মেরুর ‘পারমাফ্রস্ট’ বা স্থায়ী বরফস্তর গলে যাচ্ছে, যা থেকে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে।
ম্যামথরা যখন এই বরফের ওপর ঘুরে বেড়াবে এবং বরফ মাড়িয়ে শক্ত করবে, তখন তা মাটির নিচের তাপমাত্রা শীতল রাখতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, বিলুপ্ত প্রাণীকে ফিরিয়ে আনার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক উপায়ে উত্তর মেরুর বরফ রক্ষা করা।
এই উদ্যোগটি নিয়ে নৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। একদিকে অনেক পরিবেশবাদী একে ‘গড কমপ্লেক্স’ বা প্রকৃতির ওপর মানুষের অন্যায্য হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, এই বিলিয়ন ডলার খরচ করে বর্তমানের বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করাই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
অন্যদিকে, সমর্থকরা বলছেন যে মানুষই এই প্রাণীগুলোকে বিলুপ্ত করেছে, তাই তাদের ফিরিয়ে এনে ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০২৬ সালের এই ম্যামথ প্রজেক্টটি প্রমাণ করছে যে মানুষ এখন কেবল পরিবেশ রক্ষাই করছে না, বরং নষ্ট হয়ে যাওয়া ইতিহাসকেও পুনরায় লিখে প্রকৃতিকে ঠিক করার চেষ্টা করছে।
