মহাসাগরীয় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড: ২০২৫-এর ডাটা এবং ২০২৬-এর ভয়াবহ পূর্বাভাস
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ তাদের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ২০২৫ সাল ছিল আধুনিক ইতিহাসের তৃতীয় উষ্ণতম বছর এবং গত ১১ বছরের প্রতিটি বছরই ছিল উষ্ণতমের রেকর্ড ভাঙা বছর।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো মহাসাগরগুলোর তাপমাত্রা। ২০২৫ সালের শেষ এবং ২০২৬ সালের শুরুতে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বিজ্ঞানীদের মতে ‘অভাবনীয়’।
আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ‘মেরিন হিটওয়েভ’ বা সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ চলছে। এর ফলে সমুদ্রের জল থেকে উৎপন্ন হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর শক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে।
২০২৬ সালের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, এবছর আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের সংখ্যা এবং তীব্রতা অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে ২০% বেশি হতে পারে। সমুদ্রের এই উত্তাপ কেবল আবহাওয়া নয়, বরং সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজনন এবং বাস্তুসংস্থানকেও ধ্বংস করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই চরম আবহাওয়ার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মাছের অভিবাসন ঘটছে এবং অনেক দ্বীপ রাষ্ট্র তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০২৬ সালের এই রিপোর্টটি বিশ্বের নেতাদের কাছে একটি ‘ফাইনাল অ্যালার্ম’। এখন আর কেবল আলোচনা নয়, বরং সমুদ্রের উত্তাপ কমানোর জন্য কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি ‘মেরিন ক্লাউড ব্রাইটেনিং’-এর মতো জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবার সময় এসেছে।
