আপনার ফোনটি কি একটু পুরনো হতেই ধীর হয়ে যাচ্ছে বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুরো ফোনটি বদলে ফেলতে হচ্ছে? ২০২৬ সালে এই সমস্যাটি এখন ইতিহাস। বিশ্বজুড়ে ‘রাইট টু রিপেয়ার’ (Right to Repair) আন্দোলন এক বিশাল বিজয়ের মুখ দেখেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন এশিয়াতেও নতুন আইন পাস হয়েছে যেখানে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য এমনভাবে তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে যাতে গ্রাহকরা নিজেই তা মেরামত করতে পারেন। এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রশংসিত পরিবেশগত উদ্যোগ।
এই আইনের ফলে বাজারে এসেছে ‘মডুলার ইলেকট্রনিক্স’। ধরুন আপনার ফোনের ক্যামেরাটি ভালো কিন্তু ডিসপ্লে ভেঙে গেছে—আপনি এখন কেবল ডিসপ্লে মডিউলটি কিনে নিজে লাগিয়ে নিতে পারবেন, পুরো ফোনটি ফেলে দেওয়ার দরকার নেই।
অ্যাপল, স্যামসাং এবং ডেল-এর মতো কোম্পানিগুলো এখন মেরামতের কিট এবং অনলাইন টিউটোরিয়াল প্রদান করছে। ২০২৬ সালে ই-বর্জ্য (E-waste) বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমানোর এটিই সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে এই পরিবর্তন ‘রিপেয়ার ইকোনমি’ বা মেরামত অর্থনীতির জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি এলাকায় এখন ‘রিপেয়ার ক্যাফে’ তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ তাদের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসে এবং অভিজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে তা ঠিক করে।
এটি একদিকে যেমন গ্রাহকদের কয়েক হাজার ডলার সাশ্রয় করছে, অন্যদিকে পরিবেশকে বিষাক্ত লিথিয়াম এবং আর্সেনিক দূষণ থেকে রক্ষা করছে। ২০২৬ সালের এই ট্রেন্ডটি প্রমাণ করে যে, ‘ব্যাবহার করো এবং ফেলে দাও’ (Use and Throw) সংস্কৃতির দিন শেষ। স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারই এখন আধুনিক প্রযুক্তির নতুন পরিচয়।
