জেনেভা সম্মেলন ও পরবর্তী পদক্ষেপ: ২০২৬ সালের মধ্যে প্লাস্টিক মুক্ত বৈশ্বিক চুক্তির নতুন আশা
বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি’ (Global Plastic Treaty) ২০২৫ সালের শেষে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।
আগস্ট মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আইএনসি-৫.২ (INC-5.2) আলোচনাটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেনেভাতেই পুনরায় আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্লাস্টিকের নকশা থেকে শুরু করে উৎপাদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে একটি আইনগতভাবে বাধ্যকর আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করা।
বর্তমানে বিশ্বে বার্ষিক ৪৬০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে মাত্র ৯% পুনর্ব্যবহার বা রিসাইকেল করা হয়। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ২০৬০ সালের মধ্যে এই বর্জ্যের পরিমাণ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১.২ বিলিয়ন টনে পৌঁছাবে।
এই উদ্যোগের সাথে ১৬০টিরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে, যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১৫.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তারা দাবি তুলেছে যে, প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর জন্য কঠোর বৈশ্বিক মানদণ্ড না থাকলে কোনো বিনিয়োগই টেকসই হবে না। ইউনিলিভারের মতো বড় কোম্পানিগুলোও এখন রিফিল এবং রিইউজ (পুনরায় ব্যবহার) মডেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে এই চুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি দেশ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টরা, যারা প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর চেয়ে কেবল রিসাইক্লিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো একটি ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ (Just Transition) বা ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে, যাতে প্লাস্টিক খাতের শ্রমিক এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ইউএনইপি-এর নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন বলেছেন, পৃথিবী এখন প্লাস্টিকের বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্তি চাইছে এবং এই চুক্তিতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা যাবে না।
২০২৬ সালের চূড়ান্ত চুক্তিটি যদি সফল হয়, তবে এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পর পরিবেশ সুরক্ষায় মানবজাতির সবচেয়ে বড় অর্জন হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখন বিশ্বজুড়ে ‘একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক’ বর্জনের ওপর প্রচারণা তীব্র করা হয়েছে।
