২০২৬ সালের ২১ মার্চ বিশ্ব বন দিবসে বন বিভাগ এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের বাঘ শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০৫-এ পৌঁছেছে।
এক দশক আগেও যেখানে বাঘের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ছিল, সেখানে ২০২৬ সালের এই সংখ্যা বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক মহাকাব্যিক সাফল্যের গল্প বলছে।
সাফল্যের পেছনের কারিগর আমাদের ইনভেস্টিগেটিভ টিম সুন্দরবনের গভীরে গিয়ে দেখেছে, বাঘের সংখ্যা বাড়ার প্রধান কারণ হলো ‘স্মার্ট প্যাট্রোলিং’ এবং হরিণ ও বন্যশূকরের মতো শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি।
২০২৬ সালে সুন্দরবনের প্রতিটি বাঘের গলায় এখন স্মার্ট রেডিও কলার লাগানো হয়েছে, যা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে। এছাড়া ‘বাঘ-মানুষ দ্বন্দ্ব’ কমাতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে স্মার্ট সোলার ফেনসিং দেওয়া হয়েছে।
বন দস্যুমুক্তকরণ ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ: ২০২৫ সালে সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত ঘোষণা করার পর বনের নিস্তব্ধতা ফিরে এসেছে, যা বাঘের প্রজননের জন্য সহায়ক হয়েছে।
এছাড়া নদীর মিষ্টি জলের প্রবাহ বাড়ানোর ফলে লোনা জলের আগ্রাসন কমেছে, যা বনের বৃক্ষরাজি বিশেষ করে গোলপাতা ও সুন্দরী গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বাঘের সংখ্যা বাড়ায় এখন ‘ইকো-ট্যুরিজম’ বা নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বন বিভাগ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, বাঘের আবাসস্থলে মানুষের হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ২০২৬ সালের এই সাফল্য বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের জন্য একটি বড় শিক্ষা।
