মহাকাশ থেকে পরিবেশ রক্ষা: এআই এবং স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বালু মাফিয়া দমন
অবৈধ বালু উত্তোলন এবং খনিজ সম্পদ চুরি বর্তমানে পরিবেশগত অপরাধের অন্যতম প্রধান খাত। ইন্টারপোল (INTERPOL) এবং ‘সুইফট জিওস্পেশিয়াল’ (Swift Geospatial) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আমাজন অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে অবৈধ খনির কার্যক্রম নদীপ্রবাহ পরিবর্তন এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই অপরাধীরা এতদিন নজরদারির বাইরে থাকলেও, এখন ৩-মিটার রেজোলিউশনের ‘প্ল্যানেটস্কোপ’ (PlanetScope) স্যাটেলাইট এবং এআই-চালিত সেন্সর ব্যবহার করে তাদের রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করা হচ্ছে।
পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়া, গিনি এবং সেনেগালে সম্প্রতি পরিচালিত এক অভিযানে ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রটি নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছিল, যার ফলে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে গেছে এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জল প্রবেশ করছে।
স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে হঠাৎ বন্যা বা দীর্ঘস্থায়ী খরার সৃষ্টি হচ্ছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সংরক্ষিত এলাকায় নতুন কোনো খনন বা রাস্তা তৈরির চিহ্ন থাকলে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিচ্ছে।
এই অপরাধের সাথে প্রায়শই আন্তর্জাতিক মানব পাচার এবং মাদক ব্যবসার সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমাজনে পরিচালিত ‘অপারেশন গ্রিন শিল্ড’-এ দেখা গেছে, অবৈধ খনি শ্রমিকদের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী পাচার এবং বন উজাড়ের কাজও চলছে।
স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এখন অপরাধীদের ব্যবহৃত ট্রাক এবং ড্রেজারগুলোর গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর বাস্তুসংস্থান এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যে অনেক মাছের প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।
স্যাটেলাইট প্রযুক্তির এই সফল ব্যবহার প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিকভাবে দুর্গম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন অপরাধীদের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একটি কঠোর আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান।
