পরিবেশ রক্ষায় পরিবহন খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের শুরুতে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে এমন এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে যা ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের চিত্র চিরতরে বদলে দিচ্ছে।
জাপানের টয়োটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং এসডিআই যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা সফলভাবে ‘সলিড-স্টেট ব্যাটারি’ (Solid-State Battery) বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। এই প্রযুক্তিকে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় ‘ক্লিন-টেক’ উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিগুলোতে তরল ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহৃত হয়, যা অনেক সময় অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে আগুন ধরার ঝুঁকি তৈরি করে এবং এর শক্তি ঘনত্বও (Energy Density) সীমিত।
অন্যদিকে, সলিড-স্টেট ব্যাটারি কঠিন ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করে, যা কেবল নিরাপদই নয়, বরং এটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির তুলনায় দ্বিগুণ শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।
২০২৬ সালের এই নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তির ফলে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি মাত্র ১০ মিনিটে সম্পূর্ণ চার্জ হবে এবং একবার চার্জে প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারবে। এটি পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ির সীমাবদ্ধতাকে পুরোপুরি দূর করে দিয়েছে।
এই উদ্ভাবনের ফলে পরিবেশগত সুবিধা বিশাল। প্রথমত, ব্যাটারির ওজন কমে যাওয়ায় গাড়ির কার্যক্ষমতা বেড়েছে এবং চাকা ক্ষয়ের ফলে উৎপন্ন মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ কমেছে। দ্বিতীয়ত, সলিড-স্টেট ব্যাটারিতে কোবাল্টের ব্যবহার অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।
কোবাল্ট খনন প্রক্রিয়ায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৬ সালে ব্যাটারি কোম্পানিগুলো এখন ‘এআই-ডিসকভারড’ নতুন খনিজ সংমিশ্রণ ব্যবহার করছে যা পরিবেশবান্ধব এবং সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে ইউরোপের অনেক দেশ নতুন পেট্রোল গাড়ি বিক্রির সময়সীমা আরও এগিয়ে এনেছে। চার্জিং স্টেশনের অবকাঠামো তৈরিতে এখন ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হচ্ছে, যেখানে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সরাসরি ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হবে।
তবে লিথিয়ামের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা এখন সমুদ্রের জল থেকে লিথিয়াম সংগ্রহের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। সলিড-স্টেট ব্যাটারির এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই পারে পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের আরামদায়ক জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে।
